চিংড়ি-মাছ রপ্তানিতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল

Bangladesh Bank
ডিএসজে

নতুন অর্থবছরের শুরুতেই হিমায়িত খাদ্য খাতের জন্য বড় অর্থায়ন সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গঠন করা হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল। চিংড়ি, মাছসহ হিমায়িত খাদ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

তহবিলের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। নতুন কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা এবং বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণে ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে। চলতি মূলধনের জন্যও থাকবে ঋণের সুযোগ।

রবিবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ খাতে বিনিয়োগের টাকা ফেরত আসতে সময় লাগে। পাশাপাশি মজুত ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বেশি। কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগও সীমিত। এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়েই তহবিলটি গঠন করা হয়েছে।

তহবিলের অর্থ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এতে অংশ নিতে পারবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণকারী চুক্তি করতে হবে। তহবিল পরিচালনা ও তদারকির দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-২-এর ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য, এই অর্থায়নের মাধ্যমে হিমায়িত খাদ্য খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো। চিংড়ি, মাছ, সবজি ও প্রস্তুত খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

তিন বছর চলবে, অর্থায়ন হবে বিভিন্ন খাতে

তহবিলটির মেয়াদ হবে তিন বছর। এটি হবে ঘূর্ণায়মান তহবিল। অর্থাৎ ঋণের অর্থ পরিশোধ হলে তা আবার নতুন ঋণে ব্যবহার করা যাবে। চিংড়ি, মাছ ও অন্যান্য হিমায়িত খাদ্য উৎপাদনে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। কাঁচামাল কেনা, উৎপাদন ও সংগ্রহেও ঋণ পাওয়া যাবে।

বিদ্যমান কারখানা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও অর্থ ব্যবহার করা যাবে। হিমায়িত খাদ্য সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণেও ঋণ পাওয়া যাবে। বন্ধ বা আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে। পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর ব্যয়ও তহবিলের আওতায় রয়েছে।

সম্পূর্ণ নতুন হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নির্মাণে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে। বিদ্যমান কারখানা সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে।

নতুন কারখানার ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকতে পারে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সংস্কার বা আধুনিকায়নের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। এখানেও সর্বোচ্চ এক বছর গ্রেস পিরিয়ডের সুযোগ রয়েছে।

চলতি মূলধনে ২০ কোটি, সুদ সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ

কাঁচামাল কেনা, উৎপাদন ও সংগ্রহে চলতি মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে। বেতন-ভাতা ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধেও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। তবে চলতি মূলধনের সীমা নির্ধারণ করবে ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার বিবেচনায় নেওয়া হবে। নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য টার্নওভার দেখা হবে। কোনো অবস্থাতেই এই ঋণের সীমা ২০ কোটি টাকার বেশি হবে না।

চলতি মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর। সন্তোষজনক লেনদেন থাকলে একবার নবায়ন করা যাবে। তবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ দুই বছর এই সুবিধা নিতে পারবেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে এই তহবিলের অর্থ দেবে ৪ শতাংশ সুদে।

নির্ধারিত মাশুলের বাইরে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ বা ফি নেওয়া যাবে না।

তহবিলের আওতায় ঋণ ও নিজস্ব মূলধনের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০। অর্থাৎ উদ্যোক্তাকে প্রকল্পে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে রয়েছে বাড়তি সুবিধা। সৌর প্যানেল কেনা ও স্থাপনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ঋণ পাওয়া যাবে। তবে মূল প্রকল্প ঋণের ৩০ শতাংশ এবং ৫ কোটি টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটিই প্রযোজ্য হবে।

তহবিলের সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে তাদের বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১৫ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

খেলাপিরা বাদ, নজরদারিতে ঋণের ব্যবহার

খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই তহবিলের সুবিধা পাবেন না। একই খাতে অন্য কোনো সরকারি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে ঋণ চলমান থাকলেও একই খাতে এই তহবিলের সুবিধা নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক বাছাই ও ঋণ অনুমোদনের দায়িত্ব থাকবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের ওপর। জামানত নেওয়া এবং ঋণের অর্থের ব্যবহার তদারকিও ব্যাংককে করতে হবে।

ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রচলিত নিয়মে ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশন রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা বা ঋণগ্রহীতার কারখানা পরিদর্শন করতে পারবে। ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

এই তহবিলের ঋণগ্রহীতার সব লেনদেন ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হবে। এ জন্য এসক্রো হিসাব বা রাজস্ব হিসাব ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

পরিবেশ ও শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়েও শর্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক ও কর্মীদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশেষ শর্ত না মানলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিল বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য তহবিল থেকেও ঋণ না দেওয়ার বিধান রয়েছে।

ঋণ অনুমোদনের পর ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। চলতি মূলধন ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে আবেদন করতে হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top