সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আবেদন

DSJ Web Photo CombinedIslamicBank
ডিএসজে

আমানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ খুলতেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী তাঁদের জমা অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন।

এসব আবেদনের বিপরীতে তাঁরা মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা তুলতে চেয়েছেন। এর মধ্যে এককালীন পুরো আমানত তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন ২ হাজার ৩৬৭ জন। তাঁদের আবেদনের বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ২৪৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত নিয়মে আমানত উত্তোলনের সুযোগ চালুর পর প্রথম দিনেই বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। সংশ্লিষ্ট শাখা ও উপশাখাগুলোতে গ্রাহকদের কাছ থেকে এসব আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

ব্যাংকটির জন্য প্রথম দিনের এই আবেদনের পরিমাণ একই সঙ্গে আমানতকারীদের চাহিদা এবং তারল্য ব্যবস্থাপনার বড় একটি পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এককালীন পুরো আমানত তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করা ২ হাজার ৩৬৭ গ্রাহকের ২৪৪ কোটি টাকা পরিশোধে ব্যাংককে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের সংস্থান রাখতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন আমানত আটকে থাকার পর গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যাংকটির প্রতি আমানতকারীদের আস্থার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়ম মেনে আবেদন গ্রহণ ও দ্রুত অর্থ পরিশোধ করা গেলে গ্রাহকদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা যাবে। বিপরীতে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে ব্যাংকের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

প্রথম দিনের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, পুরো আমানত তুলে নিতে চাওয়া গ্রাহকের সংখ্যা মোট আবেদনকারীর তুলনায় কম হলেও তাঁদের চাওয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে প্রায় ১৮ হাজার আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার চাহিদা তৈরি হওয়ায় সামগ্রিক অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা ধরে রাখাও ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আবেদনগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে। গ্রাহকের হিসাব, আমানতের পরিমাণ এবং প্রযোজ্য নিয়ম পর্যালোচনার পর অর্থ ছাড় করা হবে। ফলে আবেদন জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব গ্রাহককে একই সময়ে অর্থ পরিশোধ করা হবে না; যাচাই ও প্রক্রিয়াগত ধাপ সম্পন্ন করেই অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করা। কারণ একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের আবেদন করলে ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেনের পাশাপাশি আমানত ফেরতের জন্যও নগদ অর্থের জোগান রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত তারল্য ব্যবস্থাপনা না থাকলে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে আমানতকারীদের জন্য উত্তোলনের সুযোগ চালু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রয়োজনের সময় গ্রাহকেরা নিজেদের জমা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিপুলসংখ্যক আবেদন দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তি করা এবং একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য ধরে রাখা।

প্রথম দিনের প্রায় ১৮ হাজার আবেদন তাই শুধু আমানত উত্তোলনের একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনা, অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের পরীক্ষাও বটে। সামনে আরও আবেদন জমা পড়লে ব্যাংকটি কীভাবে সেই চাপ সামাল দেয়, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top