শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের কাঠামোতে বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর আকার অনুযায়ী অর্থায়নের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার কম পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব অর্থের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ মার্জিন অর্থায়ন পাওয়া যাবে। পোর্টফোলিও ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে এই সীমা বেড়ে হবে নিজস্ব অর্থের সমপরিমাণ। তবে তালিকাভুক্ত লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ অনুপাত রাখা হয়েছে ১:০.২৫।
পুঁজিবাজারে মার্জিন অর্থায়নের নতুন কাঠামোতে বিনিয়োগকারীর নিজস্ব অর্থ ও ঋণের অনুপাতকে পোর্টফোলিওর আকারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জীবনবিমা খাতের শেয়ারের জন্য আলাদা ও তুলনামূলক কম অর্থায়নসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে কোন ধরনের বিনিয়োগে কতটা ঋণ নেওয়া যাবে, তা আগের তুলনায় আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হলো।
পোর্টফোলিও মূল্য ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার কম হলে, বিনিয়োগকারীর নিজস্ব অর্থ ও মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১:০.৫। অর্থাৎ বিনিয়োগকারী নিজের ১০০ টাকা রাখলে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন। ফলে ১০০ টাকা নিজস্ব অর্থের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ঋণ নিয়ে মোট ১৫০ টাকার বিনিয়োগ করা যাবে। অর্থাৎ মোট বিনিয়োগের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি নিজস্ব অর্থ থেকে আসবে।
অন্যদিকে পোর্টফোলিও মূল্য ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে, নিজস্ব অর্থ ও মার্জিন অর্থায়নের সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১:১। অর্থাৎ বিনিয়োগকারী নিজের ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন। ১০ লাখ টাকা নিজস্ব অর্থ থাকলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা মার্জিন নিয়ে মোট ২০ লাখ টাকার শেয়ার কেনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে তালিকাভুক্ত লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুপাত হবে ১:০.২৫—অর্থাৎ নিজের ১০০ টাকার বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা মার্জিন অর্থায়ন। এতে এ ধরনের শেয়ারে মোট বিনিয়োগের অন্তত ৮০ শতাংশ নিজস্ব অর্থে রাখতে হবে।
নতুন কাঠামোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিন। গ্রাহকের ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ থাকতে হবে। তবে এটি প্রাথমিক অর্থায়নের অনুপাতের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। অর্থাৎ শুরুতে কত টাকা নিজের অর্থ দিতে হবে এবং ঋণ নেওয়ার পর অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম কত ইক্যুইটি রাখতে হবে—দুটি আলাদা শর্ত।
নতুন বিধানের ফলে ছোট ও বড় পোর্টফোলিওর বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থায়নের সক্ষমতায় একটি স্পষ্ট পার্থক্য থাকছে। তুলনামূলক ছোট পোর্টফোলিওতে ঋণের সীমা কম থাকলেও ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব অর্থের সমপরিমাণ মার্জিন সুবিধা নিতে পারবেন। ফলে বড় পোর্টফোলিওর ক্ষেত্রে বাজারে লিভারেজ ব্যবহারের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকবে।
তবে জীবনবিমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে সীমা কম রাখার ফলে এই শ্রেণির সিকিউরিটিজে মার্জিনভিত্তিক বিনিয়োগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখার কাঠামো তৈরি হয়েছে। এখানে ১:০.২৫ অনুপাতের অর্থ হলো, প্রতি ১০০ টাকা নিজস্ব অর্থের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ঋণ—অর্থাৎ ১০০ টাকা নিজস্ব অর্থ দিয়ে সর্বোচ্চ ১২৫ টাকার বিনিয়োগ করা যাবে।
নতুন কাঠামোয় মার্জিন অর্থায়নকে শুধু ঋণের পরিমাণ দিয়ে নয়, বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধন এবং পোর্টফোলিওর আকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে একই পরিমাণ ঋণ সুবিধা সব ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য প্রযোজ্য না হয়ে বিনিয়োগের আকারভেদে অর্থায়নের সক্ষমতা নির্ধারিত হবে।
সব মিলিয়ে নতুন ব্যবস্থা মার্জিন ঋণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—পোর্টফোলিওর আকার অনুযায়ী অর্থায়নের সীমা, জীবনবিমা শেয়ারের জন্য পৃথক অনুপাত এবং ঋণ নেওয়ার পর ন্যূনতম ইক্যুইটি ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন সুবিধার প্রকৃত সীমা বুঝতে প্রাথমিক অর্থায়ন অনুপাত ও রক্ষণাবেক্ষণ মার্জিন—দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।













