প্রথম মাসে কোনো ব্যয় করতে পারেনি ৯ মন্ত্রনালয় ও বিভাগ

DSJ Web Photo adp
প্রতীকী ছবি (AI দ্বারা তৈরি)

বড় বাজেট, হাজারের বেশি প্রকল্প—কিন্তু অর্থবছরের প্রথম মাসেই উন্নয়ন ব্যয়ের গতি প্রায় থমকে আছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জুলাই মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ০.৬৯ শতাংশ। ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার এডিপি থেকে এক মাসে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যার প্রায় অর্ধেকই করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ ৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জুলাইয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের এডিপিতে ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৮৬টি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২৩টি, কারিগরি সহায়তা ১০৯টি এবং নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প ৫৩টি।

জুলাইয়ে এডিপিতে মোট যে অর্থ খরচ হয়েছে, তার ৪৪.৮৭ শতাংশই গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে। বিভাগটি একাই ব্যয় করেছে ৯৫১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০১টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অর্থাৎ জুলাইয়ে নিজস্ব বরাদ্দের ২.৮৫ শতাংশ ব্যয় করেছে বিভাগটি। গ্রামীণ অবকাঠামো, সড়ক ও পানি সরবরাহসহ চলমান প্রকল্পে অর্থ ছাড় হওয়ায় শুরুতেই এ বিভাগে তুলনামূলক বেশি ব্যয় হয়েছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সেতু বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জুলাইয়ে কোনো এডিপি অর্থ ব্যয় করতে পারেনি।

বড় বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর অগ্রগতিও খুব কম। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে জুলাইয়ে ব্যয় হয়েছে ৬৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, অর্থাৎ মাত্র ০.২৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ বিভাগ ১৮ হাজার ১০৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা বরাদ্দ থেকে ব্যয় করেছে ২০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৭ হাজার ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় করেছে ২৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

নৌপরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি আরও ধীর। নৌপরিবহনে ৯ হাজার ৫২০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে জুলাইয়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। রেলপথে ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

তবে সব খাতের চিত্র একই নয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জুলাইয়ে তাদের বরাদ্দের ৫.১৪ শতাংশ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ২.৫২ শতাংশ ব্যয় করেছে।

এবারের জুলাইয়ের ০.৬৯ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হার গত বছরের একই সময়ের সমান হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাস্তবায়ন হার ছিল ১.০৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১.২৭ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ০.৯৬ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি নতুন নয়। বর্ষাকাল, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় সময় লাগাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এক মাসে শূন্য ব্যয় বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নজরদারি বাড়ানো না হলে অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে শুধু বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার ব্যাহত হবে না, প্রকল্পের মান ও সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top