বাংলাদেশে বিওয়াইডির গাড়ি উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রানার

DSJ Web Photo Runner
ডিএসজে কোলাজ

বাংলাদেশে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডির গাড়ি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দেশীয় অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস পিএলসি বিওয়াইডির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত কারিগরি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদও চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। ফলে বাংলাদেশে বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের প্রস্তুতি এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে যাচ্ছে।

রানার অটোমোবাইলসের পরিচালনা পর্ষদের গত বৃহস্পতিবারের সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন ও মূলধন কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোম্পানিটি প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ অর্থের অন্তত ৫০ শতাংশ পরবর্তী সময়ে ইকুইটি বা সাধারণ মূলধনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এসব শেয়ার ইস্যু করা হবে।

বিওয়াইডির গাড়ি উৎপাদনের জন্য রানারকে কারখানায় নতুন মেশিনারিজ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন করতে হবে। এ জন্য নতুন করে বিনিয়োগ করবে কোম্পানিটি। উৎপাদন শুরুর আগ পর্যন্ত বিওয়াইডির তৈরি গাড়ি আমদানি করে বাংলাদেশে বাজারজাত করবে রানার।

অর্থাৎ রানারের কৌশলটি দুই ধাপে এগোবে। প্রথম ধাপে সম্পূর্ণ প্রস্তুত গাড়ি বা সিবিইউ আমদানি করে বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রাহক চাহিদা তৈরি করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে কারখানা সম্প্রসারণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় উৎপাদনে যাওয়া হবে।

একই সভায় অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রানার। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

রানার অটোমোবাইলসের সঙ্গে বিওয়াইডির সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিওয়াইডির বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি শুরু হওয়ার পর রানার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সিজি-রানার বাংলাদেশ লিমিটেড দেশটিতে বিওয়াইডির পরিবেশক হিসেবে কাজ করে আসছে। এবার সেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থানীয় উৎপাদনের পর্যায়ে যাচ্ছে।

রানারের জন্য এটি ব্যবসায়িকভাবে বড় পরিবর্তন। এত দিন প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ছিল মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনকেন্দ্রিক। চার চাকার বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে প্রবেশের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা রানার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু লক্ষণ দেখিয়েছে। ওই অর্থবছরে কোম্পানির আয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়ে ৫৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায় এবং পরিচালন মুনাফা হয় প্রায় ১১০ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা লোকসানের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭ কোটি টাকা নিট মুনাফায় ফেরে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আর্থিক ব্যয় এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে বিওয়াইডির গাড়ি উৎপাদনের খবর শেয়ারবাজারেও তাৎক্ষণিক আগ্রহ তৈরি করেছে। রবিবার ডিএসইতে রানারের শেয়ারদর ৮০ পয়সা বেড়ে ৫৩ টাকায় উন্নীত হয়।

রানার-বিওয়াইডি উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির স্থানীয় উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। ভবিষ্যতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়লে গাড়ির উৎপাদন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও থাকতে পারে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাজারের আকার, গাড়ির বিক্রি, উৎপাদন ব্যয়, অর্থায়নের খরচ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং টেকসই মুনাফার ওপর।

সব মিলিয়ে বিওয়াইডির সঙ্গে কারিগরি চুক্তি সম্পন্ন হওয়া রানারের জন্য শুধু নতুন একটি গাড়ি উৎপাদনের ঘোষণা নয়; এটি মোটরসাইকেলনির্ভর ব্যবসা থেকে বৈদ্যুতিক চার চাকার গাড়ির শিল্পে প্রবেশের বড় রূপান্তর। এখন মূল পরীক্ষা হলো—বড় অঙ্কের বিনিয়োগকে কত দ্রুত উৎপাদন, বিক্রি ও মুনাফায় রূপান্তর করতে পারে রানার।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top