আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চাইল বাংলাদেশ

Web Photo Card June 3 2026 BD
ডিএসজে কোলাজ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নজিরবিহীন অনিয়ম ও লুটপাটে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে গতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সম্পূর্ণ নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় বড় অঙ্কের ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। আজ বুধকার (৩ জুন) আইএমএফের বাংলাদেশ বিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঢাকা থেকে পাঠানো চিঠির মাধ্যমে ঋণ চেয়ে এই নতুন অনুরোধ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার ও সংস্কার এজেন্ডার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাবিত এই নতুন ঋণ কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এর সম্ভাব্য আকার ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

আইএমএফের মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যখন বাংলাদেশের জন্য প্রথম দফায় ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি অনুমোদন করা হয়েছিল, তখনকার তুলনায় বর্তমানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)—এই তিনটি চলমান কর্মসূচি চালু রয়েছে, যা একটি কঠিন সময়ে নীতিগত নোঙর হিসেবে কাজ করেছে। তবে পটপরিবর্তনের কারণে পুরনো শর্ত ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচিগুলোর বাস্তবায়ন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন সরকারকে এখন আরও বহুমাত্রিক ও জটিল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের চরম দুর্বলতা ও মূলধন সংকট, আশঙ্কাজনকভাবে নিম্ন রাজস্ব আহরণ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন ও টেকসই সংস্কার উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা নতুন ঋণের অনুরোধকে স্বাগত জানিয়ে আইএমএফ বলেছে, এটি সংস্থাটির সঙ্গে এমন একটি সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার মোক্ষম সুযোগ তৈরি করেছে, যা বর্তমানের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলোকে প্রতিফলিত করবে এবং নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলোকে ধারণ করবে।
তবে আইএমএফ মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নতুন এই আর্থিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী সংস্কার কর্মসূচিভিত্তিক নীতিগত প্রতিশ্রুতির ওপর।

আইএমএফের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, এই নতুন ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত করতে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদের (এক্সিকিউটিভ বোর্ড) আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকবে। এ লক্ষ্যে আইএমএফের একটি বিশেষ কর্মকর্তা দল (স্টাফ ভিজিট) সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নীতিগত অগ্রাধিকারের মূল্যায়ন এবং অর্থনীতির সম্ভাবনা ও সংস্কার-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো সশরীরে খতিয়ে দেখতে দ্রুতই বাংলাদেশ সফরে আসছেন।

আইভো ক্রিজনার আরও জানান, এই প্রাথমিক সফরের পর একটি পৃথক আনুষ্ঠানিক আলোচনার মিশন (নেগোশিয়েশন মিশন) গঠিত হবে, যা সম্ভাব্য নতুন আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট আর্থিক আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কঠোর সংস্কারের অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন প্যারামিটার নিয়ে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে চূড়ান্ত দরকষাকষি করবে।

এর আগে গত ২১ মে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ প্রথমবার ঋণ চাইলে ৪৭০ কোটি ডলার অনুমোদন দেয় আইএমএফ, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৫ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে এবং পূর্বের তহবিলের ১৮৬ কোটি ডলার এখনো পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top