এনবিএফআই খাতে আমানত বেড়ে ৫১৫৫৮ কোটি টাকা

ডিএসজে

অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভেঙে পড়েছিল দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মেরুদণ্ড। গ্রাহকদের আস্থা তলানিতে ঠেকায় এই খাতে আমানত ও আমানতকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছিল। অবস্থা এতটাই বেগতিক ছিল যে, গ্রাহকদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় ইতিমধ্যে ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই সাথে চরম সংকটে থাকা আরও ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু দিন সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে গ্রাহকদের আস্থা, যার সুফল মিলছে ২০২৫ সালের শুরু থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এ খাতে আমানত ছিল ৫১ হাজার ১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই খাতে আমানত বেড়েছে ৪৩১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এই খাতে আমানত ছিল ৪৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর তিন মাস পর জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯,৭৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা, যা মার্চের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। এরপর সেপ্টেম্বর শেষে আমানত আরও ১ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে ৫০,৭২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং ডিসেম্বর শেষে শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে ৫১,১২৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় পৌঁছায়।

আমানতের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধারাবাহিক ও নাটকীয়ভাবে বাড়ছে আমানতকারীর সংখ্যাও। চলতি বছরের মার্চ শেষে এনবিএফআই খাতের মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ৭২৬টি। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২টি। অর্থাৎ, তিন মাসের ব্যবধানে আমানতকারী বেড়েছে ৫১ হাজার ৩৪৪ জন বা ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে আমানতকারী ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০৭টি, যা জুনে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৮০ হাজার ১৬৩টিতে দাঁড়ায়। এরপর সেপ্টেম্বর শেষে আমানতকারী ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ লাফিয়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮২৫টি এবং ডিসেম্বর শেষে ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৮২টিতে উন্নীত হয়েছিল।

আমানত ও আমানতকারী বাড়লেও দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণের চিত্র এখনো বেশ রক্ষণশীল ও মন্দা। চলতি বছরের মার্চ শেষে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৪২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে যেখানে ঋণের স্থিতি ছিল ৭৮,৮২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সেখানে তিন মাসে ঋণ বিতরণ কমেছে ৪০৪ কোটি ৩ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এনবিএফআই খাতের বর্তমান স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি একদিকে ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিগুলোও স্পষ্ট করছে। আমানতে এই প্রবৃদ্ধি মূলত স্বল্পমেয়াদি আস্থা পুনরুদ্ধারের ফল। দীর্ঘমেয়াদে এই খাতকে টেকসই করতে হলে আরও স্বচ্ছতা, শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top