দেশের যাবতীয় সরকারি ফি, বিল এবং সেবা চার্জ ডিজিটাল ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে গ্রহণ করার জন্য সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমান। দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই মূলত এই ক্যাশলেস উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে আহ্বায়ক করে গঠিত উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম নীতি নির্ধারণী বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
গভর্নর তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দেশব্যাপী একটি একক সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাংলা কিউআর কোড চালু করা হয়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের নগদ টাকা ছাপানো, ব্যবস্থাপনা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করার বিশাল রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।
এর পাশাপাশি সাধারণ প্রান্তিক গ্রাহকেরা যেকোনো ব্যাংকিং অ্যাপ কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহার করে অত্যন্ত সহজে ও ইচ্ছামাফিক যেকোনো বিল বা সরকারি ফি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে পারবেন। এর ফলে দেশের সামগ্রিক আর্থিক লেনদেনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রকৃত সুবিধা একদম তৃণমূলের মানুষ ভোগ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সীমিত পরিসরে এই সরকারি ফি গ্রহণ প্রকল্প বাংলা কিউআর কোডের আওতায় চালুর লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামো এবং ক্যাশলেস লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, আইটি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাকির হোসেন, নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এবং নির্বাহী পরিচালক সরওয়ার হোসেন। এছাড়া স্টিয়ারিং কমিটির সম্মানিত সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী এবং এমএফএস এর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।











