চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) শুল্ক-কর আদায়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এনবিআরের মোট সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, যা বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বেশি। তবে আদায়ে এই ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি থাকার পরও সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ এখনো বহুদূর রয়ে গেছে।
অর্থবছরের জুলাই-মে সময়কালের জন্য এনবিআরের মোট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রথম ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আদায়ের পরিমাণ ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা কম হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রাজস্ব ঘাটতির একটি বড় চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এই সময়কালে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
আজ রাতে এনবিআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মে মাস পর্যন্ত কাস্টমসে ৭.০৮ শতাংশ, ভ্যাট বা মূসকে ১০.০৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে সর্বোচ্চ ১২.৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
এদিকে সমাপ্তির পথে থাকা জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে। এরফলে চলতি অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এটি ইতিমধ্যে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট আদায়ের পরিমাণকে (৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা) অতিক্রম করে গেছে।
এনবিআর আশা করছে, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে, যার ফলে অর্থবছরের চূড়ান্ত সমাপনীতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগৃহীত হবে। তবে এমন প্রবৃদ্ধির পরও অর্থবছর শেষে চূড়ান্ত রাজস্ব ঘাটতি সংশোধিত মূল লক্ষ্যমাত্রা (৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা) থেকে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা দূরেই থেকে যাবে।
রাজস্ব আদায়ের এই বিশাল ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এবং আদায়ের গতি ত্বরান্বিত করতে এনবিআর ইতিমধ্যে আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পৃথক তিনটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। এই টাস্কফোর্সগুলো আপিল, ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের মামলাসহ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি উদ্ঘাটন, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, উৎসে কর মনিটরিং এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের আয়কর ও ভ্যাট অডিট যুগপৎভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাজস্ব পুনরুদ্ধার ও কার্যক্রমে গতি সঞ্চারের জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এনবিআর।













