প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং আন্তর্জাতিক পাইপলাইনে থাকা প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের মারাত্মক ধসের মুখে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তির জোগান দিল অন্যতম শীর্ষ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালী করা এবং দুটি বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারের মেগা ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ।
রবিবার (২৪ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডিবির ঢাকা সফররত প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা। অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঋণ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে যেখানে বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়—উভয় ক্ষেত্রেই ১৮ শতাংশের বড় পতন হয়েছে, সেই খরা কাটাতে এডিবির এই বড় অঙ্কের ঋণের অঙ্ককে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই বিশাল ঋণ সহায়তার আওতায় মূলত দেশের সুনির্দিষ্ট চারটি বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এডিবি। প্রকল্পগুলো হচ্ছে— ‘স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (সাবপ্রোগ্রাম ২)’, ‘সেকেন্ড স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (সাবপ্রোগ্রাম ২)’, ‘সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর রোড প্রজেক্ট’ এবং ‘নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’। এই তহবিল একদিকে যেমন সরকারের আর্থিক খাত ও সুশাসনে গতি ফেরাবে, অন্যদিকে তেমনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত বিরূপ পরিস্থিতিতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থসংকটের এই কালে এডিবির এই দ্রুত ও সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে। বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে এডিবির এই ত্বরিত সহযোগিতা ও আর্থিক জোগান সত্যিই প্রশংসনীয়।”
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও একটি বড় চমকের ইঙ্গিত দিয়ে জানান, আগামীকাল (সোমবার) এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এক বিশেষ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন। ওই মেগা বৈঠক থেকে ‘দেশব্যাপী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে একটি বিশাল ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। বড় ধরনের এই কর্মসূচিটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে সাজানো হবে, যা সরাসরি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় অবদান রাখবে। বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আগামীতে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই সামাজিক উন্নয়নে আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।













