সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কখন তামাদি (সরকারের দায় বিলুপ্ত) হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ চলাকালে তার মুনাফা কখনোই তামাদি হবে না। সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ছয় বছর অতিক্রান্ত হলে তবেই সেই মুনাফা সরকারি ঋণ আইন, ২০২২ অনুযায়ী তামাদি হিসেবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে পাঠিয়েছে। সার্কুলারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ৮ জুন ২০২৬ তারিখের ব্যাখ্যাপত্র সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রের মাসিক কুপনভিত্তিক মুনাফা সংশ্লিষ্ট সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো মাসিক মুনাফা তামাদি হবে না। কেবল মেয়াদপূর্তির পর ছয় বছর অতিক্রান্ত হলে ওই মুনাফার ওপর সরকারের দায় বিলুপ্ত হবে।
একই বিধান প্রযোজ্য হবে তিন মাস অন্তর মুনাফা প্রদানকারী সঞ্চয়পত্র এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও। এসব সঞ্চয়পত্রের ত্রৈমাসিক বা নির্ধারিত মুনাফা মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন পর্যন্ত প্রাপ্য হিসেবে বহাল থাকবে। এরপর ছয় বছর পার হলে তা তামাদি হিসেবে গণ্য হবে।
বছরভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারিত সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারি ঋণ আইন, ২০২২-এর ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পাওনা আদায়ের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত না থাকলে দাবির তারিখ থেকে ছয় বছর অতিক্রম করলে সরকারের দায় তামাদি হয়ে যায়। তবে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মুনাফার দাবি মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত কার্যকর থাকে। ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তামাদি হিসাবও মেয়াদপূর্তির তারিখ থেকে শুরু হবে, এর আগে নয়।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই এই স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নিয়ে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।













