পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে দেশের অটোমোবাইল ও বাণিজ্যিক পরিবহন খাতে এক বিশাল এবং নজিরবিহীন কর রেয়াতের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তিনটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বাস ও ট্রাক আমদানি করা যাবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সব ধরনের আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাটের আগাম কর (এটি) এবং অগ্রিম আয়কর (এআইটি) থেকে শতভাগ অব্যাহতি প্রদান করেছে। মূলত ঈদের ঠিক আগে জারি করা এনবিআরের এই বিশেষ প্রজ্ঞাপন দেশের পরিবহন খাতে সবুজ প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক ও প্রশাসনিক নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকেই পরবর্তী সময়ে ২১ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই শুল্ক-কর অব্যাহতি দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী এক মাসেরও কম সময়ের জন্য কার্যকর এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে হলে আমদানিকারকদের অবশ্যই তিনটি কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।
শুল্কমুক্ত সুবিধায় এই পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানির প্রধান শর্তগুলো হলো—প্রথমত, আমদানি করা ইলেকট্রিক বাস বা ট্রাকটি সম্পূর্ণ নতুন (ব্র্যান্ড নিউ) হতে হবে; কোনো ধরনের রিকন্ডিশন বা ব্যবহৃত পুরোনো গাড়ি এই সুবিধার আওতায় আমদানি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, আমদানিকৃত বাস বা ট্রাকে স্থাপিত ব্যাটারিটি প্রতিস্থাপন (রিপ্লেসমেন্ট) করা ছাড়া ন্যূনতম সাত বছর অথবা তিন লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলবে—এমন দীর্ঘমেয়াদি অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসম্পন্ন হতে হবে এবং এর সপক্ষে আমদানিকারককে যথাযথ ও নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
তৃতীয়ত, আমদানি করা ইলেকট্রিক বাস বা ট্রাকটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত দেশীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত কারিগরি মানের হতে হবে; অথবা সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক দেশের ‘টাইপ অ্যাপ্রুভাল অথরিটি’ বা উপযুক্ত সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হতে হবে।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে গাড়ির ধারণক্ষমতা ও আসনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দিয়ে বলা হয়েছে, ন্যূনতম ড্রাইভারসহ ১৭ আসনের বৈদ্যুতিক বাস এবং ৫ টন বা তদূর্ধ্ব ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভারী বৈদ্যুতিক ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রেই কেবল এই শুল্ক ও কর মওকুফ সুবিধা কার্যকর হবে।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ডলারের সাশ্রয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারের এই ত্বরিত ও সময়োপযোগী সাড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক গাড়ি আমদানিকারকেরা। তবে এই সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তথা মাত্র এক মাস বা স্বল্প সময় বহাল থাকায়, আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং দ্রুত শিপমেন্ট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।













