দেশের ব্যাংকিং খাতের সার্বিক আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় মূলধন সঞ্চয় বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশ (ক্যাশ ডিভিডেন্ড) দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব তফসিলি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকার কম, সেসব ব্যাংক আগামী ২০২৬ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা বা বিতরণ করতে পারবে না।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কা বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি আরও সুদৃঢ় ও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে এবং বিদ্যমান সব রেগুলেটরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে, তাদের ক্ষেত্রেও একটি সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই যোগ্য ব্যাংকগুলো তাদের ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করার অনুমতি পাবে; অর্থাৎ বাকি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে স্টক লভ্যাংশ (বোনাস শেয়ার) হিসেবে রেখে দিতে হবে। এর মাধ্যমে লভ্যাংশের একটি বড় অংশ ব্যাংকের মূলধন হিসেবেই থেকে যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন এই কঠোর নিয়ম আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছর এবং তার পরবর্তী বছরগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয়ে বিগত ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ জারি করা সার্কুলার এবং এই বিষয়ের অন্যান্য প্রজ্ঞাপনের বাকি শর্ত ও নির্দেশনাগুলো আগের মতোই অপরিবর্তিত ও বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা স্ট্রিট জার্নালকে (ডিএসজে) বলেন, “বিগত বছরগুলোতে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং তারল্য সংকট দেখা গেছে, তা মোকাবিলায় ব্যাংকগুলোর নিজস্ব মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অনেক ব্যাংক আয় না থাকা সত্ত্বেও বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান লুকিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের খুশি করতে নগদ টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বের করে দেয়। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই ২ হাজার কোটি টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে ব্যাংকগুলো তাদের অর্জিত লভ্যাংশ বাইরে না পাঠিয়ে তা দিয়ে নিজেদের ক্যাপিটাল বা মূলধন বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। এতে আমানতকারীদের জমানো টাকার নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে।”












