লেনদেনে গতি আনতে আসছে স্ক্রিপ্ট নেটিং

DSJ Web Photo July 14 2026 ScriptNetting
ডিএসজে

দেশের শেয়ারবাজারে বহুদিনের আলোচিত স্ক্রিপ্ট নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই ও সিএসই) এ ব্যবস্থা চালুর নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১০২০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিএসইসি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত হওয়ার পর দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে স্ক্রিপ্ট নেটিং চালুর সম্মতি দেওয়া হবে।

বর্তমানে শেয়ার কেনা ও বিক্রির প্রতিটি লেনদেন আলাদাভাবে নিষ্পত্তি (সেটেলমেন্ট) করতে হয়। স্ক্রিপ্ট নেটিং চালু হলে একই দিনে একই কোম্পানির শেয়ার একাধিকবার কেনাবেচা করলেও দিনশেষে কেবল নিট অবস্থান (Net Position) অনুযায়ী সেটেলমেন্ট হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর লেনদেন আরও দ্রুত, দক্ষ ও কম ব্যয়বহুল হবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ধরা যাক, কোনো বিনিয়োগকারী একই দিনে একটি কোম্পানির ১০০টি শেয়ার কিনলেন, পরে ৫০টি বিক্রি করলেন এবং দিনের শেষদিকে আরও ২০টি কিনলেন। বর্তমান ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেন আলাদাভাবে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু স্ক্রিপ্ট নেটিং চালু হলে দিন শেষে নিট ৭০টি শেয়ারের ভিত্তিতেই অর্থ পরিশোধ বা শেয়ার ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।

এর আগে সম্প্রতি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত এক সংলাপে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানান, ব্রোকারেজ হাউস মালিকদের সংগঠনের প্রস্তাবের পর কমিশন ডে-নেটিং চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য এ সুবিধা একযোগে চালু করা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ভালো মানের কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে ডিএস-৩০ সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম গনমাধ্যমে বলেন, স্ক্রিপ্ট নেটিং বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত শেয়ারবাজারে বহুল ব্যবহৃত একটি ব্যবস্থা। তবে বাংলাদেশের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আচরণ, বাজারের গভীরতা এবং ভালো মানের সিকিউরিটিজের সীমিত সংখ্যা বিবেচনায় এতদিন এটি চালু করা হয়নি।

তিনি বলেন, শুরুতেই সব শেয়ারে এ সুবিধা চালুর পরিবর্তে ডিএস-৩০ভুক্ত কোম্পানিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা যেতে পারে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্য কোম্পানিতেও সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিএসই এ ব্যবস্থা চালুর জন্য মোটামুটি প্রস্তুত রয়েছে। তবে সফটওয়্যারে কিছু উন্নয়ন প্রয়োজন হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ স্ক্রিপ্ট নেটিং কার্যকর করতে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন হবে।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সিসিবিএল প্রতিষ্ঠা করা হলেও প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। ফলে স্ক্রিপ্ট নেটিংয়ের পূর্ণ বাস্তবায়নেও সিসিবিএলের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top