জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার আবারও তীব্র ঊর্ধ্বমুখী রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি এক ধাক্কায় বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে মে মাসের এই সূচক গত ১৬ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির রেকর্ড হিসেবে খতিয়ানভুক্ত হয়েছে।
আজ রবিবার বিবিএস মূল্যস্ফীতির এই উদ্বেগজনক চিত্র প্রকাশ করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৯৪ শতাংশ, যার পর থেকে গত মে মাসের আগ পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। গত এরপ্রিল ও মে মাসে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার, যার প্রভাবে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষ আরও চাপের মধ্যে পড়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ৯.০৪ শতাংশ, সেখানে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মে মাসে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মে মাসের এই বাজার অস্থিতিশীলতার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে খাদ্য খাতের লাগামহীন দরবৃদ্ধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের প্রতিফলন হিসেবে এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি যেখানে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ, মে মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে।
খাদ্য খাতের পাশাপাশি খাদ্য-বহির্ভূত বা অ-খাদ্য খাতেও মূল্যস্ফীতির পারদ বেশ উঁচুতে উঠেছে। মে মাসে খাদ্য-বহির্ভুত খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৭১ শতাংশ, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ৯.৫৭ শতাংশ। বিবিএস-এর গ্রাম ও শহরের অঞ্চলভিত্তিক উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মে মাসে শহর অঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ অনেক বেশি ছিল। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড হয়েছে ৯.৪৮ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে এই হার কিছুটা কম অর্থাৎ ৯.২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল।
বাজারের এই ক্রমবর্ধমান মূল্যের বিপরীতে সাধারণ মানুষের আয়ের সক্ষমতা তথা মজুরি বৃদ্ধির হার বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। বিবিএস জানিয়েছে, মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৮.২১ শতাংশ। সাধারণ নিয়মেই মূল্যস্ফীতির হার মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি থাকায় সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে এবং দৈনন্দিন টিকে থাকার লড়াইয়ে চাপ ও সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিবিএস দেশের ১৫৪টি প্রধান বাজার থেকে খাদ্য ও অ-খাদ্য মিলিয়ে মোট ৩৮৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে এই মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করেছে। ১২ মাসের চলন্ত গড় হিসেবে জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮.৬৩ শতাংশ।













