রপ্তানিকারকদের স্বল্পমেয়াদি টাকার তারল্য সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিশেষায়িত অঞ্চলে পরিচালিত রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে অবাধ জমার বিপরীতে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের সঙ্গে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রা ও টাকা বিনিময় করতে পারবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী রপ্তানিকারকরা তাদের ত্রিশ দিনের হিসাবের স্থিতির বিপরীতে ডলার-টাকা সোয়াপ সুবিধা নিতে পারতেন। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এখন থেকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্ক এলাকায় পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে থাকা অবাধ অর্থের বিপরীতে ব্যাংকের সঙ্গে ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রা-টাকা সোয়াপ চুক্তি করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশেষায়িত অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের স্বল্পমেয়াদি টাকার চাহিদা সহজে পূরণ করা এবং রপ্তানি কার্যক্রমে তারল্য সংকট কমানো। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
একই দিনে অপর এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চল, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াজাত অঞ্চল পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো এখন রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান এবং কারিগরি সহায়তা বাবদ নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। তবে এর জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
আগের নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে টাকার হিসাব থেকে রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান এবং কারিগরি সহায়তা ফি বাবদ বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারত নির্ধারিত সীমার মধ্যে। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এ সীমা ছিল আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ। আর চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে ঘোষিত বিক্রয় আয়ের সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রেরণের অনুমতি ছিল।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, বেজার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এই সীমার অতিরিক্ত অর্থও বিদেশে পাঠানো যাবে। এছাড়া, এ ধরনের অন্যান্য বৈধ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অর্থের পরিমাণ নির্বিশেষে বিদেশে অর্থ প্রেরণের আগে বেজার অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।













