বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ঋণের ফাঁদ পেতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সামনে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই এবার একই ধরনের প্রতারণা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতারক চক্র এডিবির নাম, লোগো, কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং অফিসের তথ্য ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ভুয়া ফেসবুক পেজ ও জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ঋণ ও আর্থিক সহায়তার প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে অর্থ আদায় ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সোমবার (২০ জুলাই) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, ব্যক্তি পর্যায়ে এডিবি কখনোই ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেয় না। ফলে এডিবির পরিচয়ে এ ধরনের কোনো প্রস্তাবই প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন কিছুদিন আগেই বিশ্বব্যাংকও তাদের নাম ব্যবহার করে পরিচালিত একই ধরনের ভুয়া ঋণ প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছিল। ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা সামনে আসায় সাইবার জালিয়াতির নতুন প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এডিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতারকরা সংস্থাটির কর্মকর্তা পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। কোথাও নকল ওয়েবসাইট, কোথাও ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, আবার কোথাও জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছে। এরপর সহজ শর্তে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না। একইভাবে কোনো ধরনের আবেদন ফি, নিবন্ধন ফি বা অন্য কোনো অজুহাতে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।
এডিবির ভাষ্য, তাদের কার্যক্রম সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, জলবায়ু, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি ঋণ বা অনুদান দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা সংস্থাটির নেই।
এ কারণে এডিবির প্রতিনিধি পরিচয়ে কেউ ব্যক্তিগত ঋণ, অনুদান বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিলে তা সম্পূর্ণ প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগের জবাব না দেওয়া এবং বিষয়টি দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ, এ ধরনের প্রতারণায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের লোগো, অফিসের ঠিকানা ও কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করায় অনেকেই সহজে বিভ্রান্ত হন। বিশেষ করে সহজ শর্তে বিদেশি ঋণ বা অনুদানের লোভ দেখিয়ে প্রতারকরা দ্রুত মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে।
বাংলাদেশে এডিবি দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বহুপক্ষীয় এই উন্নয়ন সংস্থাটির বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পরপর দুটি সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক আর্থিক প্রতারণা এখন নতুন কৌশলে বিস্তার লাভ করছে। ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ধরনের প্রতারণা মোকাবিলায় আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।













