বাংলাদেশের বন্দর, রেলপথ, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের প্রস্তাবিত বেই টার্মিনাল উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ১৮ কোটি (১৮০ মিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করতে চায় সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে কোল্ড চেইন, সাপ্লাই চেইন, বন্দর অবকাঠামো ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই), সৌদি আরবের পরিবহন ও লজিস্টিকস বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. রুমাইহ মোহাম্মদ আল-রুমাইহ-এর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব আগ্রহের কথা জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সৌদি প্রতিনিধিদল জানায়, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের বন্দর খাতে মোট বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে আগ্রহী। এর প্রথম ধাপে বেই টার্মিনাল উন্নয়নে ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
সৌদি প্রতিনিধিদল জানায়, তারা বাংলাদেশে বন্দর, রেলপথ, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পর্যালোচনা করেছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তারিত যৌথ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী সৌদি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফর এবং বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়।
অন্যদিকে রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে বিডা ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকেও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।
সৌদি উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সৌদি আরব বৈশ্বিক লজিস্টিকস হাব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে শীর্ষস্থানীয় সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সৌদি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সৌদি আরবে ব্যবসা করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকেও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের পরিচালন কার্যক্রমও আলোচনায় আসে। সৌদি উপমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মী বাংলাদেশি। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং টার্মিনালের আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, আলোচনায় এমন কয়েকটি খাত চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে সৌদি পক্ষের গভীর আগ্রহ রয়েছে এবং যা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক, কোল্ড স্টোরেজ, বন্দর অবকাঠামো এবং আর্থিক সেবা খাতে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বিডা ইতোমধ্যে একাধিক সৌদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে তারা বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে পারে এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে নেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সৌদি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহকারী উপমন্ত্রী (বিনিয়োগ) প্রকৌশলী আম্মার আল-তাফ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের বোর্ড সিইও আমের রেদা, কোম্পানিটির সিইও লার্স ভ্যাং, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।













