জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোন) ১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। তবে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই উঠে এসেছে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা। দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) সেবার গতি বাড়ানো এবং নীতিগত জটিলতা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেজার সম্মেলন কক্ষে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেনসন অ্যান্ড নিকলসন প্যাকেজিং লিমিটেড জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬.৩৪ একর জমির লিজ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই প্রকল্পে প্রায় ১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ৬০০ মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী। তিনি একই সঙ্গে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এর সভাপতিও।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুপালী হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। একই সঙ্গে তিনি বেজার প্রতি আহ্বান জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও দ্রুত নিশ্চিত করতে এবং নীতিগত জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান করতে।
রুপালী হক চৌধুরীর এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, তিনি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নন; দেশের বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠনেরও সভাপতি। ফলে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই বৃহত্তর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম অভিযোগ হচ্ছে—জমি বরাদ্দ, ইউটিলিটি সংযোগ, আবাসন, বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেও এসব বিষয়ে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন একাধিকবার মত দিয়েছে।
চুক্তি অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত, সহজ এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে বেজা কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই বিনিয়োগ দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নতুন প্রকল্পে জেনসন অ্যান্ড নিকলসন প্যাকেজিং লিমিটেড উচ্চমানের হার্ড প্লাস্টিক প্যাকেজিং, শিল্প খাতের রঙের কনটেইনার, খাদ্যমানসম্পন্ন প্যাকেজিং, ধাতব প্যাকেজিং এবং বার্জার পেইন্টসের জন্য বিভিন্ন ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ পণ্য উৎপাদন করবে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল ও প্যাকেজিং উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বার্জার গ্রুপের দ্বিতীয় বড় বিনিয়োগ। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে প্রায় ৪০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছিল। সেই প্রকল্পের উৎপাদন আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বরাদ্দসহ প্রতিষ্ঠানটির মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৬ দশমিক ৩৪ একর।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণে এই অঞ্চলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের প্রকৃত সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে প্রকল্পগুলো কত দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারে, বিনিয়োগকারীরা কত দ্রুত প্রয়োজনীয় সেবা পান এবং ঘোষিত কর্মসংস্থান ও রপ্তানির লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়—সেই বিষয়গুলোর ওপর। বার্জারের নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি তাদের প্রথম প্রকল্পের উৎপাদন শুরুর সময়সীমাও তাই এখন বিনিয়োগ মহলের বিশেষ নজরে থাকবে।













