বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি-এর রাইট শেয়ার ইস্যুর আবেদন নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ব্যাংকটি পুঁজিবাজার থেকে ৭৭৫ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করবে, যা নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১,০১৯তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইউসিবি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি সাধারণ শেয়ার রাইট শেয়ার হিসেবে ইস্যু করতে পারবে। বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা প্রতি দুইটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার (১:২) কেনার সুযোগ পাবেন। এই শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা সংগ্রহ করবে ব্যাংকটি। বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, রাইট শেয়ার থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।
তবে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার কিছু সূচক উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ইউসিবির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৪ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
এর পাশাপাশি আরও ১২ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকার ঋণ বর্তমানে স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট (এসএমএ)-এ রয়েছে। এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ খেলাপিতে পরিণত হলে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ৫ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।
ইউসিবিকে ঘিরে অতীতেও বিতর্ক রয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত দুই বছরে ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইউসিবির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার প্রায় ৯ টাকা দরে লেনদেন হচ্ছে।













