দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপ প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে কাজে লাগাতে চায় পাঁচ দশকের বেশি সময়ের পুরোনো এই শিল্পগোষ্ঠী।
অর্থ সংগ্রহের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে প্রাথমিকভাবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও, প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুকসহ অনুমোদিত অন্যান্য পুঁজিবাজার উপকরণ বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোন উপকরণের মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং বাজার পরিস্থিতির ওপরও পুরো উদ্যোগটি নির্ভর করবে।
এ জন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস পিএলসিকে নিয়োগ দিয়েছে সিটি গ্রুপ। প্রস্তাবিত অর্থ সংগ্রহের কাঠামো নির্ধারণ, ইস্যু ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট পুঁজিবাজার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সঙ্গে ব্যাংকিং পার্টনার ও ব্যাংকার টু দ্য ইস্যু হিসেবে যুক্ত থাকবে।
সিটি গ্রুপের করপোরেট কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান, স্পনসর শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক ফারজানা রহমান এবং শম্পা রহমান উপস্থিত ছিলেন। লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী এবং ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগটি নেওয়া হতে পারে। তবে এটি ‘বেস্ট-এফোর্টস’ ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ ও সময়সীমা নিশ্চিত নয়; প্রয়োজনীয় আইনগত ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতির ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
পুঁজিবাজারে প্রবেশের সিদ্ধান্তকে সিটি গ্রুপের অর্থায়ন কৌশলের একটি নতুন দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন বিভিন্ন বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকনির্ভর অর্থায়ন দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। সিটি গ্রুপের মতো বড় ও প্রতিষ্ঠিত একটি করপোরেট গ্রুপ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিবেচনা করায় দেশের শেয়ার ও বন্ড বাজারে নতুন ধরনের ইস্যু আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করা সিটি গ্রুপ বর্তমানে দেশের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ভোজ্যতেল, ময়দা, চিনি, ডাল, চাল, ফিডসহ বিভিন্ন খাদ্য ও ভোক্তা এবং শিল্পপণ্যের ব্যবসা রয়েছে গ্রুপটির। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও বৃহত্তর অর্থনীতিতে গ্রুপটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিটি গ্রুপের প্রস্তাবিত অর্থ সংগ্রহের নির্দিষ্ট ব্যবহার খাত বা প্রতিটি উপকরণের মাধ্যমে কত অর্থ তোলা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য সংগ্রহের কত অংশ ব্যবসা সম্প্রসারণ, মূলধনী বিনিয়োগ, বিদ্যমান দায় ব্যবস্থাপনা বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে গ্রুপটির ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অর্থায়নের প্রয়োজন মেটাতে পুঁজিবাজারকে একটি টেকসই অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারে নতুন ইস্যুয়ার যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে পুঁজিবাজার ব্যবহারে উৎসাহিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সঙ্গে সিটি গ্রুপের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি বড় করপোরেট অর্থ সংগ্রহের ঘটনা হবে না; বরং দেশের পুঁজিবাজারে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত অর্থ সংগ্রহের কাঠামো, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, বাজার পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণই শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটির সাফল্য নির্ধারণ করবে।













