নিটা অ্যাকাউন্টে কর কর্তন স্বয়ংক্রিয়, লাগবে না অডিট সনদ

ডিএসজে

দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ‘অডিট সার্টিফিকেট’ বা নিরীক্ষকের সনদের জটিলতা পুরোপুরি দূর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অ-নিবাসী বা বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় শেয়ারবাজারে কোনো সিকিউরিটিজ বিক্রি করলে তার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে, যা দিয়ে তারা একই দিনে নতুন শেয়ার কিনতে বা পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।

এর ফলে একটি শেয়ার বিক্রির পর ট্যাক্স ফাইল এবং সনদ জোগাড় করতে গিয়ে বিদেশি তহবিলগুলো যেভাবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় বা অবরুদ্ধ হয়ে থাকত, সেই দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক হয়রানির অবসান ঘটল। বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বর্তমান পুঁজিবাজারের তারল্য সংকট কাটানোর বিশেষ কৌশল হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নীতিগত ছাড়ের অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টর টাকা অ্যাকাউন্ট (নিটা) পরিচালনা এবং কর কর্তনের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি অনেক বেশি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সাপোর্টে রূপ নিল।

পূর্বের জটিল নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি বা প্রবাসী বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারের কোনো স্ক্রিপ্ট বা শেয়ার বিক্রি করে মূলধনী মুনাফা (ক্যাপিটাল গেইন) করলে, সেই লভ্যাংশের ওপর কর নির্ধারণের জন্য প্রতিটি ট্রানজেকশনের পর একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের কাছ থেকে শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট নিতে হতো। এই অডিট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে বিক্রিত অর্থ সংশ্লিষ্ট নিটা অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট বা জমা করা যেত না। এর ফলে তহবিলের গতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশের বাজার থেকে ক্রমান্বয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন।

নতুন নীতিমালার বিশেষ সুবিধাটি হলো, এখন থেকে শেয়ার বিক্রির সাথে সাথেই পুরো টাকা বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক ক্রেডিট হয়ে যাবে। তবে কোনো বিদেশি বিনিয়োগকারী যদি সেই অর্জিত মুনাফা বা টাকা বাংলাদেশের বাইরে নিজ দেশে পাঠাতে (রেপাট্রিয়েশন) চান, কেবল তখনই সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূলধনী মুনাফা এবং তার ওপর প্রযোজ্য করের হিসাব আলাদা বা পৃথক করবে। ব্যাংক নিজে থেকে নির্ধারিত করের অংশ কেটে রেখে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেবে এবং বাকি প্রকৃত মুনাফার অংশটি কোনো বিলম্ব ছাড়াই বিদেশে রেপাট্রিয়েশনের অনুমতি দেবে।

উল্লেখ্য, ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে মুক্ত রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে প্রথমে একটি এফসি অ্যাকাউন্ট এবং পরে নিটা অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কর কর্তনের এই স্বয়ংক্রিয়করণ এবং অডিট জটিলতা বিলুপ্ত করার ফলে আন্তর্জাতিক বড় বড় পোর্টফোলিও ফান্ডগুলো এখন থেকে ডে-ট্রেডিং বা দ্রুততম সময়ে তহবিল এক শেয়ার থেকে অন্য শেয়ারে স্থানান্তরের সুবিধা পাবে, যা শেয়ারবাজারের দৈনিক লেনদেনের খরা কাটাতে বড় ধরনের টনিক হিসেবে কাজ করবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top