ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে চাকরিচ্যুত কর্মীরা শ্রম আইন লঙ্ঘন, বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত ও মানবাধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। অন্যদিকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, পুরো প্রক্রিয়াই বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুল অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে এসব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, কোনো স্বচ্ছ পুনর্গঠন পরিকল্পনা বা ব্যয় সংকোচন নীতিমালা ছাড়াই বেছে বেছে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
চাকরি হারানোর ফলে তারা আর্থিক, মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের বাকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা কর্মপরিবেশ ও ডিএসইর কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
মানববন্ধন থেকে চাকরিচ্যুতদের অবিলম্বে পুনর্বহাল, ছাঁটাই প্রক্রিয়ার স্বাধীন তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে ডিএসইর সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল লতিফ সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া আবেদনে দাবি করেন, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়ার পর তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে তার বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু পরে নতুন কোনো অভিযোগ বা তদন্ত ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২৩ জুলাইয়ের এক চিঠিতে ছাঁটাই প্রক্রিয়াকে “অবৈধ ও একতরফা” বলে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রবিবার এক লিখিত বিবৃতিতে ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট প্রায় ৩৫০ কর্মীর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম। এটি ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ এবং কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।
ডিএসইর দাবি, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ অনুযায়ী নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দিয়ে কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই চাকরির অবসান ঘটানোর আইনগত সুযোগ রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আইন অনুযায়ী চার মাসের পরিবর্তে মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ সব আইনগত পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে চাকরিচ্যুত কর্মীদের অভিযোগ ও ডিএসইর ব্যাখ্যার মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানের দিকেই নজর রয়েছে।













