আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে আগে ঋণ পুনর্গঠন বা পুনঃতফসিল করা ব্যবসায়ীদের নতুন করে ঋণ পেতে বকেয়া টাকার কোনো অংশ বা ‘এককালীন জমা’ (কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট) পরিশোধ করতে হবে না। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সুবিধা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চামড়া শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান অনস্বীকার্য। প্রতি বছর কোরবানির পশু থেকেই দেশের মোট চামড়ার সিংহভাগ সংগ্রহ করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া দ্রুত সংগ্রহ, সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ ও বিপণন নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের হাতে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের জোগান থাকা জরুরি। এ কারণেই ব্যাংকগুলোকে উদ্যোক্তাদের অনুকূলে দ্রুত চলতি মূলধন ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করতে বকেয়া টাকা পরিশোধের যে শর্ত ছিল, তা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের অর্থ যেন তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, ব্যাংকগুলোকে সে বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা এই বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। ব্যাংকগুলো কোনোভাবেই গত বছরের তুলনায় ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমাতে পারবে না। একই সঙ্গে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা এবং কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই অগ্রগতির প্রতিবেদন আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।













