উত্তরা ফাইন্যান্সে অস্থিরতা: চেয়ারম্যান-এমডিসহ চারজনের পদত্যাগ

DSJ Web Photo Uttara
ডিএসজে

ঋণ অনিয়মে সংকটে থাকা উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালক একসঙ্গে পদত্যাগ করেছেন। রোববার একযোগে চারজনের পদত্যাগের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামোতে এখন মাত্র দুজন পরিচালক দায়িত্বে রয়েছেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন, স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চার পরিচালক রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একটি পক্ষের অনৈতিক চাপের কারণে কয়েকজন পরিচালক পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি রয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

এর আগে ঋণ অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন বোর্ড গঠন করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন পর্ষদ পুনর্গঠন করে।

নতুন বোর্ডে পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান মো. মুখতার হোসেন। অন্য স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ শফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস। এছাড়া উত্তরা গ্রুপের সিএফও মো. মাহবুব আলমকে পরিচালক করা হয়।

পর্ষদ পুনর্গঠনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই চেয়ারম্যানসহ চারজনের পদত্যাগ নতুন করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

পদত্যাগের ফলে বর্তমানে উত্তরা ফাইন্যান্সের বোর্ডে রয়েছেন মাত্র দুজন পরিচালক। তাঁদের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম। অন্যজন উত্তরা গ্রুপের সিএফও ও পরিচালক মাহবুব আলম।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পর্যায়েও পরিবর্তন এসেছে। মো. ওয়ালি উল্লাহ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এমডির পদত্যাগের ফলে পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাতেও নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

ঋণ অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা উত্তরা ফাইন্যান্সের জন্য এই পদত্যাগের ঘটনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি বোর্ড পুনর্গঠন করে সুশাসন ও আর্থিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন এই সংকট তৈরি হলো।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top