আরএসসির কার্যপরিধি বৃদ্ধিতে বিজিএমইএ’র আপত্তি কেনো

Web Photo April 15 2026 BGMEA RMG
ছবি: বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গঠিত ‘আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল’ (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে নিজেদের আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা। তাঁরা স্পষ্ট করে বলেছেন, আরএসসি শুধুমাত্র কারখানার কাঠামোগত, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য গঠিত হয়েছে; শ্রমিকদের বেতন বা ছুটির মতো বিষয়গুলো দেখা এর এখতিয়ারভুক্ত নয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিদেশি ক্রেতাদের দুটি জোট ‘অ্যাকর্ড’ ও ‘অ্যালায়েন্স’ গঠিত হয়। এদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালের জুন মাসে মালিকপক্ষ, ব্র্যান্ড এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরএসসি যাত্রা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য ছিল অ্যাকর্ড-এর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা মান বজায় রাখা।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার (ওএসএইচ) তদারকির জন্য গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বা ‘নন-ওএসএইচ’ বিষয়গুলো আরএসসির কার্যপরিধিতে যুক্ত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে আরএসসির এমন কোনো কার্যক্রম মালিকপক্ষ মেনে নেবে না।

আরএসসি ইস্যুর পাশাপাশি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মাহমুদ হাসান খান উল্লেখ করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব এবং স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের এই কঠিন সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সরকারের জোরালো নীতি সহায়তা জরুরি।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি ও বন্ড নীতি সহজীকরণ, বিশেষ করে এফওসি (ফ্রি অব কস্ট) ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত করা। এছাড়া, বন্ড লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আমদানি নীতি আদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়।

আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পোশাক রপ্তানির নগদ প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান নেতারা। পাশাপাশি ভারতের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া শিল্প উদ্যোক্তাদের সিআইপি মর্যাদা নির্ধারণের মানদণ্ড স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও করা হয় বৈঠকে।

দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতের গুরুত্ব স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পোশাক শিল্পের সংকট নিরসনে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার নীতি সহায়তা সরকার প্রদান করবে। বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top