আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক, ওঠেনি চীনা ইকোনমিক জোন

Web Photo Card June 9 2026 PMO
ছবি: পিএমও

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সর্বশেষ বৈঠকে দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হলেও দুটি বহুল আলোচিত মেগা প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সভার কার্যতালিকায় থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পটি পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনোয়ারার চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সময়স্বল্পতার কারণে এজেন্ডা থেকেই বাদ পড়েছে।

একনেক সূত্র জানিয়েছে, একনেকের মূল আলোচ্যসূচিতে থাকা “খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন)” প্রকল্পটি দীর্ঘ কালক্ষেপণ, বার বার সংশোধন এবং আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির কারণে একনেক সভায় অনুমোদন পায়নি। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে কেন এত দীর্ঘ বছর ধরে বিলম্ব হলো এবং কেন ব্যয় বারবার বাড়ানো হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তদন্ত কমিটির বিস্তারিত পর্যালোচনার পরেই এই সড়ক প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বেইজিং সফরের আগে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মহলে অত্যন্ত কৌশলগত হিসেবে বিবেচিত চট্টগ্রামের আনোয়ারার “চীনা ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)” স্থাপনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকের টেবিলে এলেও সময়স্বল্পতার কারণে তা আলোচনায় উঠতে পারেনি। সভার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে আসায় এবং পরিকল্পনা কমিশনের কিছু অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ থাকায় প্রকল্পটিকে আজকের এজেন্ডা থেকে পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশন ও বেজার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের একনেক সভায় প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উত্থাপন করা হবে এবং তখন এর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

আজকের সভায় অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) থেকে জোগান দেওয়া হবে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে বাকি ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৫টি সম্পূর্ণ নতুন, ৩টি সংশোধিত এবং ২টি মেয়াদের সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প রয়েছে। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুই ও তিন নম্বর প্রকল্প দুটি একনেক সভায় সরাসরি অনুমোদন না দিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি বা সরকারের ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের “সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ” প্রকল্পে ভবনের উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবনে আবশ্যিকভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা এসি সংযোজনের শর্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের অধীনে “ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ” প্রকল্পে অস্বাভাবিক পরামর্শক বা কনসালটেন্সি খাতের ব্যয় কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব শাকিল আক্তার জানান, একনেকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দুটি প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠালে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে যাবে, এজন্য নতুন করে আর একনেক সভায় উত্থাপন করার প্রয়োজন পড়বে না। এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়, যার মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ এবং পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের “বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)”, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের “আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন” প্রকল্প অন্যতম।

এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের “বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২”, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের “ঢাকা সিএমএইচে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)”, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের “মাদরাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট” এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে “বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন” প্রকল্পও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top