ই-কমার্সভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানি বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডানা মেলার বড় সুযোগ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের রপ্তানিকারকেরা এখন থেকে অ্যামাজন, ইবে বা এটসির মতো বিশ্বখ্যাত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সরাসরি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন। এর মাধ্যমে বিদেশি সাধারণ ভোক্তাদের কাছে সরাসরি দেশীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ‘বিজনেস-টু-কনজ্যুমার’ (বি-টু-সি) রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাপক সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রবিবার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন যুগান্তকারী নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন থেকে যোগ্য রপ্তানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা দিতে পারবে। তবে এ জন্য রপ্তানিকারকের সাথে সংশ্লিষ্ট গ্লোবাল অনলাইন মার্কেটপ্লেসের বৈধ চুক্তি থাকতে হবে, যেখানে অর্থ পরিশোধ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে।
নতুন এই বিশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, আপাতত শুধুমাত্র ক্ষুদ্র মূল্যমানের বা রিটেইল ক্যাটাগরির চালানের ক্ষেত্রে এই অনলাইন রপ্তানি সুবিধা প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতি চালানের সর্বোচ্চ মূল্য ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াটি সিএফআর (কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট) ভিত্তিতে সম্পন্ন করতে হবে। পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে শিপিং বা এয়ারওয়ে বিলসহ সমস্ত পরিবহনসংক্রান্ত নথিপত্র সরাসরি বিদেশি ক্রেতার নামে ইস্যু করা যাবে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রতি চালানের মূল্য ১ হাজার ডলারের মধ্যে হলে এবং সম্পূর্ণ অর্থ আগাম ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে এলে কোনো এক্সপি ফরম পূরণের প্রয়োজন হবে না। তবে চালানের মূল্য ১ হাজার ডলারের বেশি হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এক্সপি ফরম ব্যবহার করতে হবে। রপ্তানি আয়ের অর্থ মার্কেটপ্লেসের চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ফি, কমিশন বা অন্যান্য অদৃশ্য চার্জ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকবে। পণ্য ফেরত বা রিফান্ডের ক্ষেত্রেও রপ্তানিকারকদের বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিদেশি ক্রেতার প্রকৃত দাবি যাচাই করে রপ্তানিকারকের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা ধারণ হিসাব (ইআরকিউ অ্যাকাউন্ট) থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ইআরকিউ হিসাবে পর্যাপ্ত ডলার না থাকলে রপ্তানিকারকের টাকার হিসাব (বিডিটি অ্যাকাউন্ট) থেকেও রিফান্ড পাঠানো যাবে।
এছাড়া গ্লোবাল অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সদস্যপদ, নিবন্ধন বা বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন ফি পাঠানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। এই খরচ অগ্রাধিকারভিত্তিতে ইআরকিউ হিসাব থেকে করতে হবে, অন্যথায় ব্যাংক থেকে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো যাবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।













