রপ্তানি লেনদেনে গতি, মোবাইল পেমেন্ট স্বচ্ছতা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতীক
ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতীক

ছবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতীক

দেশের আর্থিক খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক টানা দুই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে।

সর্বশেষ, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রপ্তানি কার্যক্রমে ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেমে স্থিতিশীলতা জোরদারে আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিস্তারিত ও নির্ভুল প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন থেকে অর্থপ্রদানের বিপরীতে নথি (ডিপি) ও গ্রহণের বিপরীতে নথি (ডিএ) উভয় ব্যবস্থায় রপ্তানি নথি ইলেকট্রনিকভাবে গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিদেশি ব্যাংকে পাঠাতে পারবে।

এতে লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি অনুসরণ করে দেশীয় ও বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে আগাম সম্মতি থাকতে হবে এবং রপ্তানি চুক্তিতেও ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

যেসব দেশে ইলেকট্রনিক হস্তান্তরযোগ্য রেকর্ড (ইটিআর) আইনগতভাবে স্বীকৃত, সেখানে মালিকানা সংক্রান্ত নথিও ডিজিটালভাবে পাঠানো যাবে। তবে যেখানে আইনি স্বীকৃতি নেই, সেখানে বিল অব লেডিং বা বিল অব এক্সচেঞ্জের মতো নথি শারীরিকভাবে পাঠাতে হবে।

এর আগের দিন, সোমবার জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস), পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনাকারী (পিএসও) এবং ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারীসহ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দৈনিক ভিত্তিতে ট্রাস্ট ও নিষ্পত্তি হিসাব, ই-মানি ও ব্যবসায়ী দায় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

নির্ধারিত ফরম্যাটে প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অমান্য বা ভুল তথ্য দিলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪ অনুযায়ী মিথ্যা তথ্য প্রদান আদালতে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং জরিমানা আরোপের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, দীর্ঘদিনের খাতভিত্তিক চাপ ও অনিয়মের পর আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা (রিস্ক-বেসড সুপারভিশন- আরবিএস) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রচলিত নিয়মভিত্তিক (নিয়ম-নির্ভর) তদারকি পদ্ধতি থেকে সরে এসে প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

More News

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top