চলমান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নতুন খরচের বোঝা চাপতে যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) থেকে পাইকারি, সঞ্চালন এবং খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগামীকাল বিকেল ৩টায় কারিগরি ও আইনি পর্যালোচনা শেষে নতুন এই দামের ঘোষণা দেবে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি গ্রাহক ও বাণিজ্যিক খাতের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়তে যাচ্ছে বলে বিইআরসি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তথ্যটি নিশ্চিত করেছে বিইআরসি। রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিদ্যুতের পাইকারি (বাল্ক) ও খুচরা মূল্যহার, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি) বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) বিদ্যুতের খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য কমিশনে চূড়ান্ত প্রস্তাব দাখিল করেছিল।
এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন হারে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়তে পারে।
বিতরণ কোম্পানিগুলোর সেই দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর আইনি প্রক্রিয়া মেনে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। উক্ত গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর জোরালো আবেদন জানায়।
দাখিলকৃত প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছে। তবে বিতরণ কোম্পানিগুলোর এই মেগা প্রস্তাবের বিপরীতে বিইআরসির কারিগরি কমিটি (টেকনিক্যাল কমিটি) পুরো হিসাব যাচাই করে একটি সুপারিশ পেশ করেছে। কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর লোকসান ও পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।
ট্যারিফ বা মূল্য নির্ধারণী এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিইআরসির চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত আগামীকাল বুধবার বিকেল ৩টায় কমিশন কার্যালয়ের মূল শুনানি কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। এর আগে গত মে মাসের ২০ ও ২১ তারিখেও এই ট্যারিফ প্রস্তাবের ওপর আরও কিছু সম্পূরক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিইআরসি কারিগরি কমিটির সুপারিশের কাছাকাছি কোনো যৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা করবে, যা আগামীকাল থেকেই কার্যকর হবে।













