চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে আসা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদহার এবং জ্বালানি সংকটে বিনিয়োগে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমপি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারিত না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরই হোক, সেগুলো দূর করা হবে।
তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা কঠিন। তবে সরকার এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী সমাজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ জন্য সময় প্রয়োজন। জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে উদ্যোক্তারা ঋণ সহায়তা পাবেন। এতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না।
দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ নামে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের নকশা ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে। পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো না গেলে সরকারের কোনো উদ্যোগই সফল হবে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই। অর্থায়নের প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প ফাইন্যান্সিং বাড়াতে দেশের পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বেশ কিছু বন্ড চালুর বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বাজেটেও এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা নিয়ে উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা তিন বছর বাড়ানো, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা, কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন বৃদ্ধি, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে পিটিএ ও এফটিএ স্বাক্ষর দ্রুত করার মতো সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাসকীন আহমেদ। তবে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ঋণপ্রবাহের চিত্র বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ।
দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর ঋণের নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন ডিসিসিআই সভাপতি। একই সঙ্গে রপ্তানিতে লিড টাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে সব ধরনের সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। দেশের লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি।
তাসকীন আহমেদ জানান, সিএমএসএমই খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ডিজিটাল স্কোরিংয়ের মাধ্যমে নগদ প্রবাহভিত্তিক অর্থায়ন এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ সহজ করতে স্বল্পসুদে ঋণ চালুর প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকির চাপ কমানো, ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সহনীয় বিদ্যুৎ মূল্য নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তাব দেন তিনি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে অফশোর অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে; অন্যথায় পিছিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি একটি নেতিবাচক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। ফলে সংস্কার কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। করজাল সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের হয়রানি কমানোর কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি রেজিলিয়েন্ট হলেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরিতে ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। খেলাপি ঋণ কমাতে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা দূর করার পাশাপাশি এসএমইদের ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ইকোনমিক রিফর্ম অ্যাক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাবও দেন এই অর্থনীতিবিদ।
আইসিসি বাংলাদেশ-এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চিত্রে মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় নামেনি। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে এবং শিল্প খাত পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না।
উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আহরণে বেসরকারি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাহবুবুর রহমান একটি স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে বাংলাদেশ যতটা উদার, আমদানির ক্ষেত্রে ততটাই কঠিন নীতিমালা রয়েছে। উচ্চ শুল্কহারের কারণে স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কৌশল প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান ড. জায়েদি সাত্তার।
সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিপ্লব ঘটাতে হবে। বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা খুবই কম। বাজেটে ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে তার প্রতিফলন নেই। ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।
জনগণ যে পরিমাণ কর দিচ্ছেন, তার পুরোটা কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বিদেশি ঋণ গ্রহণ ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনা পর্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতির জন্য দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করা কঠিন। তাই ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সীমিন রহমান বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব নীতি থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং আর্থিক খাত থেকে সরকারের অধিক হারে ঋণ গ্রহণ এর জন্য প্রধানত দায়ী। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।
শিল্প খাতের কাঁচামালের দাম বেশি থাকায় পণ্য উৎপাদন কমছে জানিয়ে তিনি বন্দর ও কাস্টমসের লজিস্টিক সেবার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এবং মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে কাঠামোগত সমন্বয়ের দুর্বলতা রয়েছে। কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
জ্বালানি প্রাপ্তিসহ সহায়ক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে সুদহার কমালেও স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসনে খালেদ বলেন, বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট খাতকে কখনোই শিল্প হিসেবে গণ্য করা হয়নি। অথচ এ খাতে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে। তাই রিয়েল এস্টেটকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশে প্রায় ৭৫ বছরের কয়লার মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ কয়লা ব্যবহার করা গেলে শিল্প খাতে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। দেশের লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে একটি একক সরকারি সংস্থা গঠন এবং সব করদাতার জন্য ট্যাক্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতির ওপর জোর দেন সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ। সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, সরকারের মোট রাজস্বের ৯৬ শতাংশই আসে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে। তাই বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করজাল আরও সম্প্রসারণ এবং এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের এসএমএমইদের জন্য পৃথক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।













