কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় কৃষক ও পল্লী উদ্যোক্তারা কৃষি উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ নিতে পারবেন। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ স্কিম ভূমিকা রাখবে। ৮ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া স্কিমটির মেয়াদ তিন বছর।
স্কিমের আওতায় শস্য ও ফসল উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ ও পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা যাবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৪২টি ব্যাংক এ স্কিমে অংশগ্রহণের চুক্তি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একজন গ্রাহক শস্য ও ফসল উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে এ সীমা ২০ লাখ টাকা। আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডসহ অন্যান্য পল্লী ঋণে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ নেওয়া যাবে।
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ সুবিধা। শস্য ও ফসল উৎপাদনে এসব কৃষক এককভাবে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে উৎপাদিত শস্য ও ফসলই দায়বদ্ধকরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, স্কিমটির মূল লক্ষ্য শুধু কৃষি উৎপাদনে অর্থের প্রবাহ বাড়ানো নয়; বরং পল্লী অর্থনীতিতে আয় সৃষ্টির সুযোগ সম্প্রসারণ করা। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, কৃষি খাতে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে পল্লী অঞ্চলে মানুষের আয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে।










