উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত ৪১ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন প্যাকেজের আওতায় ঋণ বিতরণে প্রাথমিকভাবে সাতটি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তিতে অংশ নেওয়া ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার পাঁচটি অর্থায়ন প্যাকেজ গঠন করা হয়েছে।
এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও পল্লী খাতের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ১০ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গঠনে ৩ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত তারল্যকে উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক্-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের আওতায় তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, ডেপুটি গভর্নর মো. সরোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিচালক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে প্রবাহিত করার পাশাপাশি প্রাক্-অর্থায়ন ও পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে তুলনামূলক সাশ্রয়ী অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অর্থনীতিতে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।











