এসডিজি বাস্তবায়নের পরীক্ষাগার এবার চরাঞ্চলেও

DSJ Web Photo SustainableDevelopment
প্রতীকী ছবি (AI দ্বারা তৈরি)

দেশের পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলের বাস্তবতা না বুঝে সারা দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের মডেল তৈরি করতে চায় না সরকার। তাই বর্তমানে এসডিজি বাস্তবায়নের পাইলট কর্মসূচিতে থাকা তিনটি গ্রামের সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত চরাঞ্চলের আরও একটি গ্রাম যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিহউল্লাহ। তাঁর মতে, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও উন্নয়ন চাহিদা আলাদা হওয়ায় সেখানে এসডিজির কার্যকারিতা যাচাইয়ের অভিজ্ঞতা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হারমনি হলে গতকাল সোমবার ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের প্রথম দিনের প্লেনারি অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব দেন। অধিবেশনে ‘এসডিজি স্থানীয়করণ ও এসডিজি গ্রাম পাইলট কর্মসূচি’ নিয়ে আলোচনা হয়।

বর্তমানে মিতিঙ্গাছড়ি, পানখালী ও নাফানগর—এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি বাস্তবায়নের মডেল হিসেবে নিয়ে কাজ করছে সরকার। এসব গ্রামের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা হচ্ছে।

ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, দেশের পুরো জনগোষ্ঠীর ওপর একসঙ্গে কোনো নতুন উন্নয়ন মডেল প্রয়োগ না করে প্রথমে সীমিত পরিসরে পরীক্ষা করা দরকার। কয়েকটি গ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে কোনো উদ্যোগের সফলতা ও সীমাবদ্ধতা বোঝা গেলে পরবর্তী সময়ে সেটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

তাঁর ভাষায়, তিন-চারটি গ্রামকে এক ধরনের ‘পরীক্ষাগার’ হিসেবে ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা কাজ করছে। সফল হলে সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সারা দেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

এই পরীক্ষামূলক কাঠামোয় চরাঞ্চলের একটি গ্রাম যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নদীভাঙন, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় ভিন্ন। ফলে সেখানে এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কী ধরনের নীতি ও সেবা প্রয়োজন, তা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সেই সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

এসডিজির সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিভিন্ন বিষয়ের সামঞ্জস্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের সময় এসডিজিকে ভিত্তি হিসেবে সামনে রাখা হয়নি। জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করেই ভিশন ২০৩০, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন বিষয় তৈরি করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, এসব অঙ্গীকারের অনেকগুলোর সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যগুলোর মিল রয়েছে।

অধিবেশনে জিইডির সদস্য ড. মনজুর হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আউয়াল, সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান এবং দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অধিবেশনে অংশ নেন।

চরাঞ্চলের একটি গ্রামকে পাইলট কর্মসূচিতে যুক্ত করার প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এসডিজি স্থানীয়করণ কর্মসূচিতে দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা যাচাইয়ের একটি আলাদা ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top