বগুড়ায় ৪০০ একরের শিল্পপার্ক, শীতেই কাজ শুরুর উদ্যোগ

DSJ Web Photo LightEngineering
ছবি: পিআইডি

বগুড়ার বিদ্যমান শিল্পনগরীর জায়গা শেষ। অথচ নতুন শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। এই চাহিদা সামাল দিতে প্রায় ৪০০ একর জমিতে নতুন শিল্পপার্ক গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত পার্কে শুধু শিল্পের জায়গা নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কারিগরি সহায়তা এবং তুলনামূলক কম সুদের অর্থায়নের সুবিধাও রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে চলতি শীত মৌসুমেই শিল্পপার্কটির প্রাথমিক উন্নয়নকাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নে প্রস্তাবিত শিল্পপার্কের স্থানও পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী বলেন, বগুড়া দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। বিশেষ করে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে বগুড়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বগুড়ার বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরী ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের নতুন শিল্প স্থাপনের চাহিদাও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে নতুন বিসিক শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত শিল্পপার্ককে শুধু শিল্প স্থাপনের জন্য জমি ও অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। সেখানে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শিল্পপার্কে প্রকল্প স্থাপনকারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়েও সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, উদ্যোক্তারা সরকারের ক্রেডিট হোলসেলিং স্কিমের আওতায় তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থায়নের ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প ও ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করা কঠিন। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়নের খরচও কমাতে হবে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার কথাও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি গ্যাস সংযোগ সহজ করা এবং কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বগুড়াকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন শিল্পপার্কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য পরিকল্পিত শিল্প অবকাঠামো তৈরি হলে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। ব্যবসায়ী সমাজের জন্য সংগঠনের সেবার পরিধি বাড়ানো, কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা এবং উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

অনুষ্ঠানে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মোহিত তালুকদার, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এবং পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। চেম্বারের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত শিল্পপার্ক বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার শিল্পায়নে নতুন জায়গা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্প স্থাপন, অর্থায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ একসঙ্গে তৈরি হতে পারে। তবে প্রেসরিলিজে শিল্পপার্কটির নির্দিষ্ট অবস্থান, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া, বাস্তবায়নকারী সংস্থা কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এখন মূল নজর থাকবে পরিকল্পনাটি কত দ্রুত প্রকল্প পর্যায়ে যায় এবং ঘোষিত শীত মৌসুমে বাস্তবে উন্নয়নকাজ শুরু হয় কি না।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top