প্রায় দুই বছর পর আবারও পুঁজিবাজার থেকে নতুন কোনো কোম্পানিকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান-এর নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রথম ইনিশিয়াল কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফার (আইকিউআইও) অনুমোদন পেয়েছে শতভাগ রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েল ফুটওয়্যার পিএলসি। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ১০২০তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রয়েল ফুটওয়্যার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ২০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।
বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, রয়েল ফুটওয়্যার একটি শতভাগ রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত জুতা খুচরা বিক্রেতা ROSS-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রেতার কাছে জুতা সরবরাহ করে থাকে।
সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ বিদ্যমান ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। এছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং আইকিউআইও-সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতেও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২৭ দশমিক ৫৪ টাকা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এনএভি ১৫ দশমিক ৭৪ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি অর্ধবার্ষিক আয় (ইপিএস) ছিল ০ দশমিক ৮২ টাকা।
এই ইস্যুর ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি। একই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ইসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড আন্ডাররাইটার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
দুই বছর পর আবারও মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কমিশনের এই অনুমোদন স্থবির হয়ে থাকা প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহ কার্যক্রমে নতুন গতি ফেরানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন সর্বশেষ টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের আইপিও অনুমোদন দেয়। একই বছরের ৯ জুন দুয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের আইকিউআইও অনুমোদন দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন দুয়ারসহ সব চলমান আইপিও ও আইকিউআইও আবেদন বাতিল করে দেয়। ওই কমিশনের সময়ে আর কোনো নতুন মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সে হিসেবে দীর্ঘ বিরতির পর মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রথম মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন হিসেবে রয়েল ফুটওয়্যারের আইকিউআইও বাজারে নতুন সূচনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই কমিশন সভায় বিএসইসি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশোধনের খসড়া অনুমোদন, দেশের পুঁজিবাজারে স্ক্রিপ নেটিং (ইন্ট্রাডে ট্রেডিং) চালুর লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সাপেক্ষে সম্মতি দেওয়া এবং ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান-এর ১০ বছর মেয়াদ শেষে ফান্ডটি অবলুপ্তির প্রস্তাব অনুমোদন।













