সংস্কারের গতি নির্ধারণে আইএমএফও মানছে বাংলাদেশের বাস্তবতা

DSJ Web Photo July 13 2026 IMF
ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে এবার শুধু আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত নয়, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও সমান গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)ও এই নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইএমএফ কর্মসূচির আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে সংস্কারের “সিকোয়েন্সিং” বা কোন সংস্কার আগে এবং কোনটি পরে বাস্তবায়ন হবে—সেই বিষয়ে। সরকারের দাবি, আইএমএফও এখন স্বীকার করছে যে বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবসম্মত নয়।

সোমবার সচিবালয়ে আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কর্মসূচির নীতিগত ভিত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে। সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামো এবং বাস্তবায়ন কৌশলের সঙ্গে আইএমএফ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কার একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কোন সংস্কার কখন করা হবে এবং তার সামাজিক প্রভাব কী হবে, তা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এগোবে। “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংস্কার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আইএমএফও এ বিষয়ে একমত হয়েছে,” বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমান আলোচনা মূলত নতুন ঋণ কর্মসূচির নীতিগত ভিত্তি নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। ঋণের পরিমাণ বা নির্দিষ্ট শর্ত নয়, বরং সংস্কারের অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েই এবার বেশি আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কার ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকারের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের এই দায়িত্বশীল অবস্থানকে আইএমএফ গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত চার মাসে আর্থিক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় এবং পুঁজিবাজারে নেওয়া উদ্যোগ নিয়েও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক অগ্রগতি এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর সরকারের পরিকল্পনাকে আইএমএফ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো কোনো নির্দিষ্ট শর্ত বা বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আপাতত নতুন কর্মসূচির ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে। পরবর্তী পর্যায়ে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার সময় আবারও দুই পক্ষের বৈঠক হবে। সেখানেই নতুন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে অর্থমন্ত্রীর দাবি করা আইএমএফের সমর্থনের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সরকারের উপস্থাপিত অবস্থানই আপাতত আলোচনার একমাত্র সরকারি বিবরণ।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top