কেন কমে গেল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ?

Bangladesh Bank
ডিএসজে

প্রতি দুই মাস পরপরই একই ঘটনা ঘটে, কিন্তু অঙ্কটা বড় হওয়ায় আলোচনাও বাড়ে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল বাবদ ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়; বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আকুর বিল পরিশোধের পর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন তহবিল ( এলটিএফএফ) সমন্বয় ছাড়া রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩৬৩ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে ৩১ দশমিক ৭২২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯২৯ বিলিয়ন ডলারে।

আকুর বিল পরিশোধের আগে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক দফায় ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভে সাময়িকভাবে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের হ্রাস দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তন প্রতি দুই মাস পরপরই দেখা যায়। কারণ, আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন নির্ধারিত সময় পরপর একবারে নিষ্পত্তি করা হয়। বাংলাদেশ যেহেতু এসব দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, তাই বিল পরিশোধের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ ছাড় করতে হয়। ফলে রিজার্ভ সাময়িকভাবে কমে গেলেও পরবর্তী সময়ে রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় ও অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের মাধ্যমে তা আবার বাড়তে শুরু করে।

রিজার্ভ কমলেও নতুন অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাব্যঞ্জক চিত্র দেখাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই) দেশে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬২ দশমিক ৮ শতাংশ। শুধু ৬ জুলাই একদিনেই দেশে এসেছে ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার সমপরিমাণ প্রবাসী আয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আকুর বিল পরিশোধের ফলে রিজার্ভে যে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ নেই। বরং আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে রিজার্ভ আবারও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ এবং ডলারের চাহিদার গতিপ্রকৃতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারণ, এসব উপাদানই আগামী সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন হলো সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত একটি আঞ্চলিক আন্তঃদেশীয় লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ এর সদস্য। এই ব্যবস্থার আওতায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির হিসাব প্রতি দুই মাস অন্তর একবারে নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে আমদানি বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভে সাময়িক চাপ তৈরি হওয়া এ ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top