এজেন্ট ব্যাংকিং আমানতের অর্ধেকের বেশি ইসলামি ধারার ব্যাংকে

Web Photo Card June 4 2026 iBB
ছবি: ইসলামি ব্যাংক

গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহ এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজ আর্থিক লেনদেন পৌঁছে দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় ল্যান্ডমার্ক পরিবর্তন এনেছে এজেন্ট ব্যাংকিং। দেশের গ্রামীণ অঞ্চলের এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সালের মার্চ প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের স্থিতি ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই বিশাল আমানতের অর্ধেকেরও বেশি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বেসরকারি খাতের ৮টি ইসলামি ধারার ব্যাংক। আর মোট আমানতের প্রায় অর্ধেকই জমা পড়েছে একক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ঘরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন থেকে এসব চাঞ্চল্যকর ও প্রবৃদ্ধির তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর চলতি ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি ৮৯ লাখ টাকায়। সেই হিসাবে বছরের প্রথম তিন মাসে এই খাতে নতুন আমানত বেড়েছে ৮৪২ কোটি টাকা। আমানতের পাশাপাশি গ্রাহক সংখ্যাতেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে মোট হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৮১টি, যা চলতি বছরের মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০৩টিতে। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসে নতুন গ্রাহক অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ২২৪টি।

খাতভিত্তিক আমানত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চরমভাবে পিছিয়ে রয়েছে। মোট ৫০ হাজার ৫৬২ কোটি টাকার আমানতের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংগ্রহ মাত্র ৮৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যার পুরো টাকাটাই এককভাবে রয়েছে সোনালী ব্যাংক পিএলসির ঝুলিতে। অন্যদিকে বাকি ৫০ হাজার ৪৭৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকাই জমা হয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্টে। এই বেসরকারি আমানতের মধ্যে সাধারণ বা প্রচলিত ধারার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংগ্রহ ২৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত সংগ্রহের শীর্ষে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, যার আমানতের পরিমাণ ৭ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এই তালিকায় ৬ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পথিকৃৎ ব্যাংক এশিয়া। এছাড়া ১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার আমানত নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক পিএলসি।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এজেন্ট ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের মধ্যে ২৭ হাজার ৬৫ কোটি টাকাই কুক্ষিগত করে রেখেছে বেসরকারি খাতের ৮টি ইসলামি ধারার ব্যাংক। এর মধ্যে একক রাজত্ব ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, যার বর্তমান আমানতের পরিমাণ ২২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আর ৩ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা আমানত নিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ইউএনডিপির সহায়তায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে বিশেষায়িত এই ব্যাংকিং সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং যাত্রা শুরু করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও সম্প্রতি আউটলেট ও এজেন্ট সংখ্যায় সামান্য হ্রাস পাওয়া এই খাতের জন্য একটি মৃদু সতর্ক সংকেত। তবুও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো ও প্রান্তিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে এজেন্ট ব্যাংকিং এখন দেশের মূল চালিকাশক্তি।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top