অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া পুঁজিবাজার পুনর্গঠনের ঘোষণার দুই দিনের মাথায় পদত্যাগ করলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ সংস্থাটির চার কমিশনার। গত মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থমন্ত্রী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাঁরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এর আগে গত ২ জুন রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানান যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুনর্গঠন করা হবে। এই ঘোষণার পরপরই মূলত পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা।
বিদায়ী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ৪ বছরের জন্য বিএসইসির শীর্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মু. মোহসীন চৌধুরী (২ জুন ২০২৪), মো. আলী আকবর (২৮ আগস্ট ২০২৪) এবং ফারজানা লালারুখ (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪)। সবশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন মো. সাইফুদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরেই খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ছিল পুঁজিবাজার। বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতিসহ নানা আন্দোলন করে আসছিলেন। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বিভিন্ন সময় রাস্তায় নেমে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করেন। মূলত এই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক তীব্র চাপের মুখেই পুরো কমিশন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
আজ পদত্যাগের পর বিএসইসি কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে নিজেদের বিদায়ের কথা জানান চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা। বার্তায় তাঁরা লেখেন, “প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, আপনারা এর মধ্যে জেনে থাকতে পারেন, অদ্য আমরা চেয়ারম্যান এবং কমিশনারবৃন্দ কমিশন হতে ইস্তফা প্রদান করেছি। আমাদের চাকরি সময়কালে আপনাদের সাথে অত্যন্ত কর্মতৎপর সময় পার করেছি এবং সকল ক্ষেত্রে আপনাদের পেশাদারি দক্ষতা ও আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি আপনারা এর গতিশীলতা ধরে রাখতে পারবেন। আপনাদের উত্তরোত্তর উন্নতি কামনায়—চেয়ারম্যান ও কমিশনারবৃন্দ।”
কমিশনের এই একযোগে বিদায়ের মাধ্যমে বিএসইসিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব আসার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও গতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।













