রুগ্ন কারখানায় নীতি সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

DSJ Web Photo May 11 2026 BGMEAMeeting
ছবি: বিজিএমইএ

দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট নিরসন এবং রপ্তানি বাণিজ্যের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ নেতাদের বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১১ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিজিএমইএ’র নবনির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বন্ধ কারখানা পুনরায় সচল করার পাশাপাশি প্রতিকূলতার মুখে সংগ্রাম করা সচল কারখানাগুলোর সুরক্ষাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দেশের পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, শিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং উপদেষ্টা মাহদি আমিন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারের (এমএমএফ) ব্যবহার বাড়িয়ে উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় সচল করতে সরকারের বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, কারখানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে রাষ্ট্রের অর্থের কোনো অপব্যবহার না হয়। একই সাথে তিনি বর্তমানে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার সংগ্রাম করা কারখানাগুলোকে বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেন, যাতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজিএমইএ’র প্রস্তাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, “সরকার বন্ধ কারখানা সচল করা এবং সচল থাকা সংগ্রামী কারখানাগুলোকে সুরক্ষা প্রদান—এই উভয় বিষয়কেই সমান গুরুত্ব দেবে।” তিনি আরও জানান, বিজিএমইএ’র সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। মূলত কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাড়ানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী। বৈঠকে দেশের শিল্পখাত এবং অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সদিচ্ছার জন্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top