পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) শক্তিশালী কাঠামো ব্যবহার করে সরকারি অব্যবহৃত জমিকে দেশের প্রথম ‘গ্রিন এনার্জি হাব’-এ রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছে বেজা। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ফেনীর সোনাগাজীর প্রায় ৪১২ একর জমিতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে। প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
বেজা জানিয়েছে, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের এই উদ্যোগটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন গাইডলাইনের আওতায় গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত সরকারি অব্যবহৃত জমিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের লক্ষ্যেই বেজার মালিকানাধীন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এই বিশাল ভূখণ্ডকে নির্বাচিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ মার্চ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২ এপ্রিল এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সোনাগাজীর এই কেন্দ্রটিকে একটি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কন্ট্রাক্টিং অথরিটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং বেজা জমির মালিক হিসেবে প্রয়োজনীয় ভূমি সরবরাহ করবে। বেজা মনে করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত হবে এবং সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সহজ হবে। এটি সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহারের একটি উদাহরণ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়ে বেজা জানিয়েছে, এখানে আধুনিক ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করবে। এই প্রকল্পের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের আগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যে শীঘ্রই একটি ‘মার্কেট সাউন্ডিং’ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সরকার পরবর্তীতে এই খাতে বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলেও বেজা আশা প্রকাশ করেছে।
সমঝোতা স্মারকে বেজার পক্ষে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী বোর্ডের সচিব ড. জুলিয়া মঈন এবং বিপিডিবি-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের সচিব আফরোজা সুলতানা। অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বেজা মনে করে, এই সফল মডেল অনুসরণ করে সরকারের অন্যান্য সংস্থাও তাদের অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।













