২০২৫ সালে বাংলাদেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহে ৩৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় প্রাপ্তির অঙ্ক এখনো অত্যন্ত সামান্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই এসেছে, যা ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলোর অর্জিত বিনিয়োগের তুলনায় নগণ্য।
ভিয়েতনাম ও ভারত যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের নতুন পুঁজি বা ইক্যুইটি বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বড় অংশই এসেছে আন্তঃকোম্পানি ঋণ ও মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। গত বছর বাংলাদেশের চেয়ে ৫০ গুণ বেশি নতুন পুঁজি পেয়েছে ভিয়েতনাম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে আসা নিট এফডিআইয়ের মধ্যে নতুন পুঁজি বা ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল মাত্র ৫৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম প্রায় ৩৮ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিবন্ধিত এফডিআই পেয়েছে, যার মধ্যে প্রকৃত বিনিয়োগই ছিল ২৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। ভিয়েতনামের ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রসেসিং খাতে সিঙ্গাপুর ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা বড় অঙ্কের এই ইক্যুইটি বিনিয়োগ দেশটিকে বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখছে।
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও পেছনে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসেই ভারত ৭৩ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই অর্জন করেছে, যেখানে বিনিয়োগের শীর্ষে ছিল সিঙ্গাপুর ও মরিশাস। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবা খাতে আসা এই বিপুল পুঁজি বাংলাদেশের মোট এফডিআইয়ের তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি। এমনকি কম্বোডিয়াও গত বছর ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে, যার ৭৩ শতাংশের বেশি এসেছে চীন থেকে মূলত ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে।
বাংলাদেশের এফডিআই বৃদ্ধির ধরনেও রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। গত বছর দেশে আন্তঃকোম্পানি ঋণ আগের বছরের তুলনায় ৩১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারী আসার চেয়ে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে ঋণ লেনদেন বেশি করেছে। বিপরীতে প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন পাকিস্তানও অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে প্রায় ১ দশমিক ৬১৮ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে, যার বড় অংশই ছিল নতুন প্রকল্পের জন্য আসা ইক্যুইটি পুঁজি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে বন্দর সুবিধা, সস্তা ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সেখানে ইক্যুইটি বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। বাংলাদেশে পুনর্বিনিয়োগের হার ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়লেও নতুন পুঁজি আসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও বড় আকারের বিদেশি ইক্যুইটি আকর্ষণ করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।













