পোশাক শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ

Web Photo April 11 2026 BGMEA
ডিএসজে

সারাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। সোমবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এই আহ্বান জানান। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ বিজিএমইএর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে সৃষ্ট সংকটে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে। চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল সরকারের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তৈরি পোশাক কারখানাসমূহে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য জরুরি গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সকল শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানানো হয়। এছাড়া দ্রুততম সময়ে অন্তত দুটি অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন এবং ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজতর করার অনুরোধ করা হয়।

উৎপাদন খরচ ও সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর সকল প্রকার ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জাম আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধার আবেদন জানানো হয়। সোলার প্যানেল ও ইনভার্টারসহ অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমিয়ে এক শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানায় বিজিএমইএ।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের অর্থনীতিতে এই শিল্পের অবদান বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। এর পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএ-র দেওয়া বিশেষ ফরম্যাটটি তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদন করা হয়।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top