সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীলতার পথে বাংলাদেশ

ডিএসজে কোলাজ
ডিএসজে কোলাজ

ছবি: ডিএসজে কোলাজ

কৃষি ও শিল্পকলকারখানা সচল হওয়ায় দীর্ঘদিন পর অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। এক বছরের ব্যবধানে চলতি প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রায় দ্বিগুণ দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে চলতি মূল্যে মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) আকারও।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৫০ শতাংশে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশ অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার স্পষ্ট লক্ষণ। যদিও ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৬৯ শতাংশ, তবে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন ২০২৫) প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৩৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে অর্থনীতির প্রধান তিন খাতেই উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে শিল্পখাত। উৎপাদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–পানি সরবরাহ এবং নির্মাণ উপখাতের চাঞ্চল্য এ খাতে ৬.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এনে দিয়েছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৩.৫৯ শতাংশ। কৃষিখাত ঋণাত্মক অবস্থা থেকে ফিরেছে ইতিবাচক ধারায়। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ০.৬০ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ২.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সার ও বীজের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সেবাখাত শিল্পের মতো উচ্চ প্রবৃদ্ধি না হলেও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে। চলতি প্রথম প্রান্তিকে সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২.৯৬ শতাংশ। বাণিজ্য, পরিবহন ও আর্থিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করায় এ খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি বেড়েছে।

জিডিপির আকার ও তুলনামূলক চিত্র

বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মূল্যে জিডিপির আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ লাখ ৪০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে জিডিপির আকার বেড়েছে ১১.৭ শতাংশ বা ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকার যদি সময়োপযোগী সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে, তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এটি ৬.৩ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সরকারি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে কিছু বিষয়ে জরুরি নজর দিতে হবে। প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। ব্যাংকখাত সংস্কার করে খেলাপি ঋণ কমানো এবং তারল্য সংকট দূর করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিবিএসের এই সাময়িক হিসাব অর্থনীতির তাৎক্ষণিক গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম প্রান্তিকের এই অর্জন পুরো অর্থবছরের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে, যা নীতি সহায়তার মাধ্যমে টেকসই করা সম্ভব। একই সঙ্গে এই ইতিবাচক ধারা পুরো বছর বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top