দীর্ঘদিন ধরে আমানতের টাকা ফেরতের অপেক্ষায় থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি গ্রাহকদের জন্য অবশেষে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকেরা তাঁদের হিসাবের জমা মূল অর্থ এককালীন তুলে নিতে পারবেন। তবে এই পর্যায়ে উত্তোলন করা মূল টাকার সঙ্গে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। টাকা ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে সব বিভাগীয় প্রধান, জোনাল প্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অপারেশনসের প্রধান সমন্বয়ক এ এফ সাব্বির আহমদ প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে ব্যক্তি গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেন চালুর কথা রয়েছে। তবে আমানত ফেরতের জন্য শাখা ও উপশাখাগুলোর নগদ অর্থের চাহিদা নির্ধারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নগদ সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিরাপদ নগদ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এ কারণে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের মূল টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি হিসাব—এমটিডিআর ও ডিপিএসসহ—থেকে গ্রাহকেরা তাঁদের জমা মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। যাঁরা হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখবেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট হিসাবের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে মুনাফা পেতে থাকবেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে মুনাফাসহ প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ মিলবে।
গ্রাহকদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১ সেপ্টেম্বরকে ‘কাস্টমার ফার্স্ট: পেমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস এক্সিলেন্স ডে’ হিসেবে পালন করবে ব্যাংকটি। এদিন শাখা ও উপশাখাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও গ্রাহকবান্ধব পরিবেশে সাজানো, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা রাখা এবং সুশৃঙ্খলভাবে সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের নির্ধারিত ও মার্জিত পোশাকে উপস্থিত থেকে গ্রাহকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে বলা হয়েছে। আগত গ্রাহকদের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি দিনের কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নির্ধারিত নম্বরে পাঠানোর নির্দেশনাও রয়েছে। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, নারী ও প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সেবা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়।
পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট আমানত প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশই খেলাপি, যার পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতিও দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি।
গত বছরের নভেম্বরে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা; বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।












