প্যাটেন্ট যেভাবে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে

Web Photo Card LDCGraduation
ছবি- এফবিসিসিআই

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের পণ্য শুধু বাড়তি শুল্কের মুখেই পড়বে না, মেধাস্বত্বের অধিকারও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় বাণিজ্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিল্পে প্যাটেন্ট বা মেধাস্বত্ব-সুরক্ষিত প্রযুক্তি ও পণ্যের ব্যবহার রয়েছে, সেগুলোতে খাপ খাওয়াতে না পারলে রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।

তাই এলডিসি উত্তরণের আগেই প্যাটেন্ট নিবন্ধন, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এলডিসি উত্তরণের জন্য সংস্কার কার্যক্রমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মকৌশল নির্ধারণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মোঃ ফজলুল হক।

সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপে জিএসপি ও ইবিএর মতো শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ঔষধ, কৃষি-রাসায়নিক, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন শিল্পে মেধাস্বত্বসংক্রান্ত বিধিবিধান আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে।

ফলে বাজারে টিকে থাকতে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, পণ্য ও প্রযুক্তির মালিকানা এবং আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর ঔষধ, কৃষি ও কৃষি-রাসায়নিকসহ বিভিন্ন খাত মেধাস্বত্বের চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশ প্যাটেন্টের আওতাভুক্ত যেসব পণ্য উৎপাদন করে, সেগুলোর দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্পের বড় অংশ কপি পণ্যনির্ভর। ফলে উত্তরণের পর এই খাতেও মেধাস্বত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল এবং কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষায় দ্রুত সরকারি-বেসরকারি কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

উদ্যোক্তারা বলেন, প্রতিটি শিল্পের সমস্যা এক নয়। তাই এসএমই, কৃষি, ঔষধসহ বিভিন্ন খাতের জন্য আলাদা ও বাস্তবভিত্তিক কর্মকৌশল প্রয়োজন। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন, লজিস্টিকস ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও নিয়মিত নজরদারিও জরুরি।

ঢাকা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো পুরোপুরি কার্যকর করা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী উইমেন চেম্বারের সভাপতি ইসমাত জেরিন খান প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও লজিস্টিকস সহায়তার দাবি জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মোঃ মুনির চৌধুরী খাতভিত্তিক চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে ফলাফলভিত্তিক কর্মকৌশল নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এফবিসিসিআই প্রশাসক মোঃ ফজলুল হক বলেন, এলডিসি উত্তরণে পাওয়া অতিরিক্ত তিন বছর যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। জেলা চেম্বার ও খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর লিখিত প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার কথাও জানান তিনি।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top