আর্থিক সংকটে জর্জরিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এবং ঋণ খেলাপি হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে আরও এক দফা বড় সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে নামমাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট বা এককালীন জমা দিয়েই গ্রাহকরা তাদের বিশাল অংকের ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দেওয়া এই নীতি সহায়তার আবেদন করার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয় ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত এবং ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছে না, তারা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত যে সকল ঋণ অশ্রেণিকৃত অবস্থায় আছে, সেগুলো এই বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আনা যাবে । পাশাপাশি, যে সকল ঋণ চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিরূপমানে শ্রেণিকৃত (অর্থাৎ খেলাপি হওয়ার পথে বা খেলাপি) হয়ে পড়েছে, সেগুলো বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পাবে । সহজভাবে বলতে গেলে, আর্থিক চাপে থাকা ব্যবসায়ীরা যাতে দেউলিয়া না হয়ে ব্যবসা সচল রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সুবিধা ফের চালু করেছে।
নতুন এই নির্দেশনায় আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছে গ্রাহকের নতুন আবেদন পৌঁছানোর পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তবে এখানে একটি বিশেষ শর্ত হলো, নীতি সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট ব্যাংকে নগদ জমা হওয়ার পর থেকেই এই তিন মাস সময় গণনা শুরু হবে । অর্থাৎ, ডাউনপেমেন্টের অর্থ ব্যাংকের অনুকূলে নগদায়ন হওয়ার আগে কোনোভাবেই আবেদন কার্যকর করা যাবে না । এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর নগদ তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনায় ঋণ শ্রেণিকরণ বা প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ‘এক্সিট’ সুবিধা পাওয়া ঋণগুলোকে ব্যাংকের খাতায় ‘এক্সিট (এসএমএ)’ মান হিসেবে দেখাতে হবে । নিয়ম অনুযায়ী, এই ঋণের বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে ।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রাহকের কাছ থেকে প্রকৃত অর্থ আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগে সংরক্ষিত বিশেষ প্রভিশন ব্যাংকের মুনাফা বা আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না । তবে ব্যাংক চাইলে সেই অর্থের একটি অংশ সাধারণ প্রভিশন হিসেবে স্থানান্তর করতে পারবে।
সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হলো নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশেষ সুবিধার আওতায় আসা কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পুরো ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে নতুন কোনো ঋণ সুবিধা নিতে পারবে না । শুধুমাত্র আগের বিদ্যমান ঋণ সুবিধাগুলো বজায় থাকবে । তবে যারা ইতিপূর্বে একই ধরনের নীতি সহায়তা গ্রহণ করেছেন, তাদের আবেদন নতুন করে এই সার্কুলারের আওতায় বিবেচনা করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের আবারও মূলধারার অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।













