বৈদ্যুতিক পণ্যে এমইপির ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ

DSJ Web Photo Investment
ছবি: বেজা

দেশের বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ নিয়ে মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) হাই-টেক শিল্পপার্ক নির্মাণ শুরু করেছে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড। সম্পূর্ণ দেশীয় এই বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা পূরণ নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক পণ্যের রপ্তানিও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, প্রকল্পটি দেশের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন, দেশীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ একর জমিতে একটি আধুনিক বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। এতে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ, যা পুরোপুরি দেশীয় উৎস থেকে আসবে। শিল্পপার্কে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান, এলইডি লাইটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন করা হবে।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বমানের, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এই শিল্পপার্ক দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।

বেজা জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের সঙ্গে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লিজ চুক্তির কয়েকটি ধারা সংশোধন এবং সময়সীমাভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর আওতায় এমইপি নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করেই নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দের পর বহু প্রকল্প দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন না হওয়ার যে প্রবণতা ছিল, সময়সীমাভিত্তিক এই বাস্তবায়ন কাঠামো তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপ বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দুই হাজার করপোরেট গ্রাহক এবং এক হাজারের বেশি পরিবেশক নেটওয়ার্ক রয়েছে।

গ্রুপটির আওতায় মোহাম্মদী ইলেকট্রিক ওয়্যার অ্যান্ড মাল্টি প্রোডাক্টস (এমইপি) লিমিটেড, এমইপি ফ্যান লিমিটেড, এমইপি এনার্জি সেভিং ল্যাম্পস ইন্ডাস্ট্রিজ, এমইপি পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ, এমইপি লাইট ইন্ডাস্ট্রিজ, এমইপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ও এমইপি অ্যাগ্রো লিমিটেড-সহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে তারা সুইচ-সকেট, বৈদ্যুতিক কেবল, এনার্জি সেভিং ল্যাম্প, এলইডি লাইট, ফ্যান এবং পিভিসি পাইপসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বড় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠা জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে এবং প্রায় ২০টি শিল্পপ্রকল্প নির্মাণাধীন। সাগর উপকূলজুড়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এই শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ইউনিটের পাশাপাশি আবাসন, সড়ক, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সমন্বিত নগর সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিনির্ভর বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের মূল্য সংযোজন বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে এই খাত ভবিষ্যতে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top