তেলের গাড়িতে করের চাবুক, ইভিতে ছাড়

Web Photo Card June 11 2026 GreenMobilityBD

দেশে ক্ষতিকর কার্বন নিঃসরণ কমানো, আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং মহামূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলারের সাশ্রয় করতে দেশের পরিবহন খাতে এক বৈপ্লবিক নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জ্বালানি তেল ও গ্যাসচালিত গাড়ি আমদানিকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে বিদ্যুচ্চালিত পরিবেশবান্ধব সবুজ গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে অভূতপূর্ব কর ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়িকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করে সবুজ যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।

নতুন বাজেটের কর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আমদানিকৃত মধ্যম সারির ১ হাজার ২০০ সিসি থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট তেলের গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বড় অঙ্কে বাড়িয়ে সরাসরি ১৫৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে তেলের গাড়ির দাম বেশ কয়েক লাখ টাকা বেড়ে যাবে।

বিপরীতে, ২৫ হাজার ডলার মূল্যমানের আমদানিকৃত বিদ্যুচ্চালিত বা ইভি গাড়ির ওপর বিদ্যমান মোট শুল্ক-কর ৯৩ শতাংশ থেকে এক লাফে কমিয়ে মাত্র ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার মূল্যের ইভির ক্ষেত্রে তা ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার নীতিগত প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সাথে উচ্চ প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও আমদানিকারক ও ক্রেতাদের বড় ধরনের ট্যাক্স রিলেশন বা কর রেয়াত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সামগ্রিক করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭৩ দশমিক ৪४ শতাংশ এবং ২ হাজার সিসি পর্যন্ত মডেলগুলোর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

দেশের অভ্যন্তরে ইভি শিল্পের টেকসই বিকাশ ও স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক বাস-ট্রাক উৎপাদনে কর সুবিধা ও শুল্ক অব্যাহতির এই বিশেষ আইনি সুবিধা আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত শতভাগ বহাল থাকবে।

দেশব্যাপী ইভি গাড়ি চলাচলের প্রধান চালিকাশক্তি বা চার্জিং স্টেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার জন্য আরেকটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন অর্থবিলে আমদানিকৃত ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের অবকাঠামোগত যন্ত্রাংশের ওপর বিদ্যমান ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশের বিশাল শুল্ক-কর সম্পূর্ণ মওকুফ করে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বিআরটিএ-তে ইভি রেজিস্ট্রেশন ও বাৎসরিক নবায়নের অগ্রিম আয়কর বর্তমানের ফ্ল্যাট ২ লাখ টাকা থেকে ইঞ্জিনের ক্ষমতা ভেদে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

Share this article

আপনারা চাইলে কাস্টম বিজ্ঞাপন এইখানে দিতে পারেন
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও সাইজ ৩৩৬x২৮০ পিক্সাল হতে হবে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top